রাবিতে গণভোট সভায় মাইকে ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষক’দের নাম ঘোষণা আম্মারের

সংবাদ সম্মেলনে ১৬১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় হঠাৎ মাইকে কয়েকজন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষক’ বলে উল্লেখ করে নাম ঘোষণা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। অনুষ্ঠানে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক উপস্থিত ও বক্তব্য রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এ পদক্ষেপ নেন। এতে অনুষ্ঠানে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিএসই বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তাঁর বক্তব্যের পর সভাস্থলে এসে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চান রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। শুরুতে সঞ্চালক অনুমতি না দিলেও পরে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের অনুমতিতে তিনি কথা বলার সুযোগ পান।

বক্তব্যে আম্মার বলেন, অনুষ্ঠানে এমন ব্যক্তিরা উপস্থিত আছেন, যারা জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি হাতে থাকা তালিকা থেকে কয়েকজন শিক্ষকের নাম ঘোষণা শুরু করেন। এ সময় সঞ্চালক তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে।”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপাচার্য মঞ্চে এসে তাকে থামান এবং অনুষ্ঠান শেষে তালিকা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাম প্রকাশ করবেন জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন আম্মার।

মতবিনিময় সভা শেষে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে সালাহউদ্দিন আম্মার ১৬১ শিক্ষকের একটি তালিকা প্রকাশ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্তরা জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান, বয়ান তৈরি, অর্থায়ন এবং দমন-পীড়নে সহযোগিতা করেছেন।

তালিকায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকারসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত না এলে সভাস্থলের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের সংহতি জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।