বড় হামলা ব্যর্থ: বেলুচিস্তানে ১৪৫ সন্ত্রাসী নিহতের দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের এসএসজি বাহিনী বেলুচিস্তানে বিএলএ-র সম্ভাব্য বড় হামলা প্রতিহত করেছে।
টুইট প্রতিবেদক: পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র একটি সম্ভাব্য সমন্বিত হামলা প্রতিহত করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পরিচালিত একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
এসব অভিযানে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, নিরাপত্তা বাহিনীর বলিষ্ঠ অভিযানে কমপক্ষে ১৪৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যা বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রতিরোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এসএসজি পাকিস্তানের প্রধান বিশেষ বাহিনী হিসেবে পরিচিত, যার দক্ষতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর নেভি সিল এবং ব্রিটিশ এসএএস-এর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বাহিনী কাউন্টার-টেররিজম, হোস্টেজ উদ্ধার এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শহুরে অভিযানে বিশেষ পারদর্শী।
সামরিক সূত্র জানায়, বেলুচিস্তানের নোশকি (Nushki) এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একজন বিএলএ সদস্যকে জীবিত আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরোধ সক্ষমতার দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া বিএলএ-র তথাকথিত ‘অপারেশন হেরফ ফেজ–২’-এর অংশ হিসেবে সংগঠনটি ১৪টি শহরে প্রায় ৪৮টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালানোর দাবি করেছে। বিএলএ দাবি করেছে, এসব হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে তারা সামরিক সদর দপ্তর, সরকারি ভবন, ব্যাংক ও যানবাহন ধ্বংসের কথাও প্রচার করে। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব দাবি বিতর্কিত ও অসম্প্রমাণিত।
নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সরকারি সূত্রের ভাষ্যমতে, গত ৪০ ঘণ্টার সংঘর্ষে মোট প্রায় ১৯৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫ জন সন্ত্রাসী, ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৭ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। এই ঘটনাকে বেলুচিস্তানে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের একটি নতুন ও আরও তীব্র ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিএলএ পাকিস্তান রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেছে।
এই হামলাগুলোর পর পাকিস্তান সরকার ঘটনাগুলোকে ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে অভিহিত করেছে, যাকে তারা “ফিতনা আল-হিন্দুস্তান” আখ্যা দিয়েছে। তবে ভারত এসব অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিহত সন্ত্রাসীদের মধ্যে কয়েকজন আফগান নাগরিকও ছিলেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে এসব সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পাকিস্তানি বাহিনী অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে।






