ফেনীতে শিক্ষার্থী হত্যা মামলা: সাবেক ৩ এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফেনীতে শহীদ শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলায় সাবেক তিন এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা!

টুইট প্রতিবেদক: ফেনীর মহিপালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্বিচার গুলিতে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ফেনী আদালত মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে পলাতক ১৫৭ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই তালিকায় রয়েছেন ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম (শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার), ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী (জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য)।

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রোববার) ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এ আদেশ দেন। নিহত শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ২০ আগস্ট ২০২৪ ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। এজাহারে ১৫১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০-১৫০ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল।

শিহাব ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আন্দোলনের সময় মহিপাল এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। পুলিশ ও সাক্ষীদের বক্তব্য অনুসারে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অস্ত্র হাতে হামলা চালিয়েছিলেন।

পূর্বের তদন্তে একাধিক মামলায় (শিহাব ও অন্যান্য নিহতদের) মোট আসামির সংখ্যা কয়েকশ থেকে হাজারেরও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট মামলায় চার্জশিট গ্রহণের পর ১৫৭ জন পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিচার শিশু আদালতে হবে বলে জানা গেছে।

এই মামলায় আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই মোতাহের হোসেন) কয়েক ডজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন, তবে শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এখনও পলাতক। আদালতের নির্দেশে পুলিশ এখন গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ঘটনা জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক। নিহতের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুসারে (২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরোয়ানা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা পোস্ট, জাগো নিউজ, জুগান্তর, প্রথম আলো ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম।