ইরানি কমান্ডারের দাবি: উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েন ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’

ইরানের আইআরজিসি উপপ্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েনকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ দাবি; ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও স্ট্রেইট অব হরমুজে লাইভ-ফায়ার অনুশীলন।
টুইট প্রতিবেদক: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক মোতায়েনকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শত্রুরা যুদ্ধ আসন্ন, এমন ধারণা ছড়িয়ে বৃহত্তর মনস্তাত্ত্বিক অভিযান চালাচ্ছে।
ওয়াহিদি জোর দিয়ে বলেন, ইরান এই ফাঁদে পা দেবে না এবং দেশের কর্মকাণ্ড এসব প্রচারণায় প্রভাবিত হবে না।
মার্কিন নৌশক্তি ও ট্রাম্পের হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে জানান, USS আব্রাহাম লিঙ্কন নেতৃত্বাধীন একটি বৃহৎ নৌবহর দ্রুতগতিতে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি ইরানকে অবিলম্বে আলোচনায় বসে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত চুক্তি করার আহ্বান জানান, অন্যথায় পরিণতি ‘অনেক খারাপ’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। ইতিমধ্যে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।
ইরানের প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া
ওয়াহিদি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের মোতায়েন নতুন নয় এবং এটিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কাঠামোতেই দেখতে হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং শত্রুদের সব গতিবিধি ক্রমাগত নজরদারিতে আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আক্রমণ করে তাহলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। এ প্রেক্ষিতে ইরানি নৌবাহিনী স্ট্রেইট অব হরমুজে লাইভ-ফায়ার অনুশীলন শুরু করেছে, যা মার্কিন উপস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান উত্তেজনা
এই উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। যুক্তরাষ্ট্র এই মোতায়েনকে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করছে, অন্যদিকে ইরান একে চাপ সৃষ্টি ও যুদ্ধের ভীতি তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছে। অঞ্চলে মার্কিন নৌশক্তির উপস্থিতি দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধি উভয়পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ইঙ্গিত নয় বরং চাপ প্রয়োগ ও আলোচনায় বাধ্য করার কৌশল। তবে স্ট্রেইট অব হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যেকোনো অঘটন তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে। উভয়পক্ষকে সংযম ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), পরিস্থিতি উত্তপ্ত কিন্তু সরাসরি সংঘর্ষের কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই।






