শেষ হলো বাঁশখালীর আন্তর্জাতিক ঋষিধামে তীর্থযাত্রীর মিলনমেলা

বাঁশখালীর ঋষিধামে ২২তম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা শেষ: মানবতার মিলনমেলায় পরিণত
অশ্বিনী কুমার রায় (অশ্বিনী): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জঙ্গল কোকদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত ঋষিধামে (হৃষিধাম বা Rishidham) ২৩ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী ২২তম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান এবং দেশের একমাত্র কুম্ভমেলা।
ভারতের প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক ও উজ্জয়িনীর ঐতিহাসিক কুম্ভমেলার আদলে আয়োজিত এই মেলাকে ভক্তরা “মানবতার মিলনমেলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মেলায় ভারতসহ দেশ-বিদেশ থেকে শতাধিক সন্ন্যাসী এবং লক্ষাধিক ভক্ত-তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটে। কর্মসূচিতে ছিল সাধু সম্মেলন, হরিকথা ও ধর্মীয় আলোচনা, নামধ্বনি-নামকীর্তন, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, ভাণ্ডারা ও তীর্থসেবা। বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার মাধ্যমে উদ্বোধন হয় এবং অদ্বৈতানন্দ সরোবর (ঠাকুরমারী দিঘি) ও দধিকুম্ভ দিঘিতে পবিত্র স্নান অনুষ্ঠিত হয়।
ঋষিধামের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা অনুযায়ী, শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ ১৯৪৮ সালে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। মেলা ১৯৫৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানেই অবস্থিত ঋষিধাম সংস্কৃত কলেজ (১৯৬৯), অদ্বৈতানন্দ চ্যারিটেবল হাসপাতাল (২০১০), শ্রীগুরু মন্দির (২০১৭)। বর্তমানে শ্রীগুরু সংঘ ও উত্তরসূরি সন্ন্যাসীরা (যেমন শ্রীমৎ স্বামী সৎচিদানন্দ পুরী) মেলার তত্ত্বাবধান করেন।
আয়োজক ও সামাজিক প্রভাব: মেলাটি আয়োজিত হয় ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ-বাংলাদেশ এবং শ্রীগুরু সংঘের তত্ত্বাবধানে। আহ্বায়ক ছিলেন অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস, সদস্য সচিব নারায়ণ মল্লিক (নয়ন), সাংবাদিক তাপস কুমার নন্দীসহ অনেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও ভক্তদের সহযোগিতায়। এটি কেবল ধর্মীয় আয়োজনই নয়, বরং মানবতা, শান্তি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা বহন করে। মেলায় লোকজ হস্তশিল্প, খাবারের দোকান এবং সাম্প্রদায়িক মিলনও দেখা গেছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই মেলা আরও বিস্তৃত হবে এবং সনাতন সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সাংবাদিক তাপস কুমার নন্দী বলেন, “এটি কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়, মানবতার জীবন্ত মিলনক্ষেত্র।”
এই মেলা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







