বঙ্গভবনের ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগ: জামায়াতের এক্স হ্যাক কাণ্ড

জামায়াত আমিরের X অ্যাকাউন্ট হ্যাক: দ্রুত রিকভার নিয়ে প্রশ্ন
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল X (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। হ্যাকাররা নারীদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। জামায়াত এটিকে “গভীর ষড়যন্ত্র” হিসেবে অভিহিত করেছে।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৪:৩৭ মিনিটে শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অ্যাকাউন্ট থেকেও অনুরূপ পোস্ট করা হয়। বিকাল ৫:০৯–৫:২২ মিনিটের মধ্যে জামায়াতের সাইবার টিম অ্যাকাউন্ট রিকভার করে এবং সংশোধনী পোস্ট প্রকাশ করে। রাত সাড়ে ৩টায় হাতিঝিল থানায় জিডি করা হয়েছে।
হ্যাকের পদ্ধতি সম্পর্কে জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্যরা দাবি করেছেন, বঙ্গভবনের [email protected] ইমেইল থেকে ফিশিং মেইল পাঠানো হয়। এই মেইলে ম্যালওয়্যার সংযুক্ত ফাইল ছিল, যা ক্লিক করার পর অ্যাকাউন্ট দখল হয়। গত কয়েক দিন ধরে জামায়াতের একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে অনুরূপ হামলার চেষ্টা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি দলের জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ক্ষুণ্ন করার একটি “গভীর ষড়যন্ত্র।” তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কথা জানান। পরে আমির শফিকুর রহমান নারীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ক্ষমা চেয়েছেন।
হ্যাক নিশ্চিত হলেও, দ্রুত রিকভার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে রিকভার করতে ২৪–৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী মাত্র ১৮–৪৫ মিনিটের মধ্যে রিকভার হওয়ায় অনেকের কাছে এটি সন্দেহজনক। বঙ্গভবনের ইমেইল ব্যবহার এবং দ্রুত রিকভারের বিষয়টি এখনো সরকারি বা পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
এই ঘটনা নির্বাচনের প্রচারণার সময় সাইবার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত সত্যতা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করেছে।






