ইরানে মার্কিন হামলার আতঙ্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা: ড্রপ সাইট নিউজ বনাম ট্রাম্পের অস্বীকৃতি ও কূটনৈতিক চাপ!
টুইট প্রতিবেদক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হুমকি দিয়েছেন, আর ইসরাইলও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে সক্রিয়। এই পরিস্থিতিতে ড্রপ সাইট নিউজ একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক চাপে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ড্রপ সাইট নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের একটি মূল মিত্র দেশের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তেই (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। লক্ষ্য শুধুমাত্র পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়, বরং রেজিম চেঞ্জ অর্থাৎ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। হামলার পরিকল্পনায় রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নেতৃত্ব ও সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ধারণা করা হচ্ছে, শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত হানলে ইরানি জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে, যা সরকার পতন ঘটাতে পারে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন সরকার গঠনে ইসরাইল সহযোগিতা করবে। এই তথ্যের সূত্র হিসেবে এসেছে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সিনিয়র আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মন্তব্য।
তবে ফ্যাক্ট-চেক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্র ট্রাম্পের রেজিম চেঞ্জ বা হামলার পরিকল্পনার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত দেয়নি। ট্রাম্প নিজেই অস্বীকার করেছেন যে সপ্তাহান্তে হামলা হবে। তিনি বলেছেন, ইরান “genuinely talking” এবং একটি “fair deal” চান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। একই সঙ্গে, একটি বড় নৌবহর (USS Abraham Lincoln-সহ) ইরানের দিকে পাঠানো হয়েছে, যা কূটনৈতিক চাপ ও সংকেত হিসেবে বিবেচিত। সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী, F-15 যুদ্ধবিমান, Patriot ও THAAD ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। স্মরণযোগ্য, পূর্ববর্তী জুন ২০২৫-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে (Operation Midnight Hammer)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি ও আল জাজিরা জানাচ্ছে, ট্রাম্প রেজিম চেঞ্জসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। লক্ষ্য মূলত ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, জনমত উসকে দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগ করে চুক্তিতে আনা। ইরানি কর্মকর্তারা যেকোনো হামলাকে “পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ” হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং US সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত হুমকি দিয়েছেন।
আরব মিত্ররা সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য আরব দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে নিতে পরামর্শ দিচ্ছে।
বর্তমান অবস্থা (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) ড্রপ সাইট নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী হামলা “যেকোনো মুহূর্তে” শুরু হতে পারে বলা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো হামলা শুরু হয়নি। ট্রাম্প কূটনৈতিক পথকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, তবে সামরিক চাপ বজায় রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত।






