তারেক রহমানের পাশে জোবাইদা; আলোচনায় বিএনপির আগামীর ‘ট্রাম্প কার্ড’

টুইট ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে দেশজুড়ে। রাজপথ থেকে জনসভা-সবখানেই এখন বিএনপির প্রচারণার মূল আকর্ষণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এবারের নির্বাচনী ময়দানে ভোটারদের নজর কেড়েছে অন্য একটি দৃশ্য। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রতিটি জনসভায় তারেক রহমানের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। রাজনীতিতে তার আনুষ্ঠানিক পদচারণা নিয়ে যখন চারদিকে গুঞ্জন, তখন তার এই সরব উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

প্রবীণ রাজনীতিকরা এই দৃশ্যপটের সঙ্গে আশির দশকের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই সময় রাজপথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দেখা যেত তরুণ তারেক রহমানকে। কখনো মিছিলে, কখনো মায়ের বক্তৃতার ডায়াসের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আগামীর নেতৃত্বের জানান দিয়েছিলেন। কয়েক দশক পর সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে জিয়া পরিবারে; তবে এবার ভূমিকার পরিবর্তন ঘটেছে। স্বামীর রাজনৈতিক লড়াইয়ে শক্তি জোগাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।

তারেক রহমান এবার ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে-যদি তিনি দুটি আসনেই জয়ী হন, তবে ছেড়ে দেওয়া আসনে কে স্থলাভিষিক্ত হবেন?

পেশায় চিকিৎসক জোবাইদার ইমেজ আগে থেকেই অত্যন্ত ইতিবাচক। শিক্ষিত ও মার্জিত হিসেবে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক।

তারেক-জোবাইদা কন্যা জাইমাকেও ইদানীং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনে আনা হচ্ছে। লন্ডনে আইন পেশায় নিযুক্ত থাকলেও দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন এই তরুণী।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সঙ্গে জোবাইদা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির জনসভাগুলোতে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একে অনেকে বিশ্ব রাজনীতির আধুনিক ধারার সঙ্গে তুলনা করছেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে শীর্ষ নেতারা যেভাবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালান, তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও তেমনটি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যে আধুনিকতার ছাপ পড়েছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

পেশাজীবী হিসেবে ডা. জোবাইদার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দলের জন্য একটি বড় সম্পদ। নেতিবাচক রাজনীতির বাইরে থেকে তাকে ‘ভদ্র ও শিক্ষিত’ সমাজ যেভাবে গ্রহণ করেছে, তা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

তবে মূল প্রশ্নটি এখনো অধরা-জুবাইদা রহমান কি সরাসরি সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে নামবেন, নাকি পর্দার আড়ালে থেকে স্বামীকে সমর্থন দিয়ে যাবেন? আর তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে জাইমা রহমান কি এখনই দলের হাল ধরবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়েই পরিষ্কার হবে। আপাতত, তারেক-জোবাইদার এই যুগলবন্দী বিএনপি সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।