বিএলএ’র ‘অপারেশন হেরোফ’: ১২৫ নিহত, হামলার দায় স্বীকার

বেলুচিস্তানে BLA-এর ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ II’: একদিনে ১২৫-এর মতো নিহত, দফায় দফায় হামলা প্রতিহত।

টুইট প্রতিবেদক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনভর চলা সমন্বিত হামলায় ব্যাপক রক্তপাত ঘটেছে। নিষিদ্ধ বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA) এই হামলার দায় স্বীকার করে এটিকে ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ II’ বলে অভিহিত করেছে।

এ হামলা কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, গোয়াদার, পাসনি, তুরবাত, তুম্প, কালাত, লাসবেলা, কেচ ও আওরানসহ ৯ থেকে ১৪টি শহর ও জেলায় একযোগে পরিচালিত হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল পুলিশ স্টেশন, প্যারামিলিটারি ইনস্টলেশন, জেল, সিভিল অ্যাডমিন ভবন, ব্যাংক এবং বেসামরিক এলাকা বলে সংবাদসুক্রগুলো প্রকাশ করেছে।

বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি-এর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ জানিয়েছে, তারা ১২-১৪ শহরে (কিছু বিবৃতিতে ৪৮ লোকেশন) ১০-১৫ ঘণ্টা ধরে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। বিএলএ দাবি করেছে, এই হামলায় ৮০-৮৪ পাকিস্তানি সেনা, পুলিশ, ইন্টেলিজেন্স ও কাউন্টার-টেররিজম কর্মী নিহত হয়েছে এবং ১৮ জনকে জীবিত আটক করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি এলাকায় সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, ব্যাংক ও যানবাহন দখল বা ধ্বংস করেছে। বিএলএ আরো দাবি করে, তাদের সাত যোদ্ধা নিহত হয়েছে (যার মধ্যে চারজন ফিদায়িন) এবং এই অভিযান স্বাধীনতা ও অধিকারের লড়াই হিসেবে বিবেচিত।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী/ISPR-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় ১৫ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ বেসামরিক নাগরিক (নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ) নিহত হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় ৯২ মিলিট্যান্ট নিহত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী অন্তর্ভুক্ত। গত ৪৮ ঘণ্টায় মিলিট্যান্টের মোট নিহত সংখ্যা ১৩৩ হয়েছে (আগের দিন ৪১ জন)। ISPR দাবি করেছে, হামলা ভারত-সমর্থিত ‘Fitna al-Hindustan’ দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো শহর বা কৌশলগত স্থাপনা দখল হয়নি।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া (Al Jazeera, Reuters, BBC, The Guardian, Dawn, AFP, AP — ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) হামলার স্থান ও স্কেল সমর্থন করেছে। BLA-এর ৮০-৮৪ নিহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। ISPR-এর ১৫+১৮+৯২ ফিগার সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত, মোট নিহত প্রায় ১২৫-১৩৩। কিছু রিপোর্টে নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত সংখ্যা ১০-১২ দেখানো হয়েছে। ভারত এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চলমান বা প্রায় সমাপ্ত। কয়েকটি জেলায় ইন্টারনেট সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন এবং হামলার সঙ্গে ভারতের হাত দেখিয়েছেন। তুরস্ক, কাতারসহ কয়েকটি দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এই ঘটনা বেলুচিস্তানের দশকব্যাপী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের সাম্প্রতিকতম এবং সবচেয়ে তীব্র পর্ব হিসেবে বিবেচিত। BLA স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের অধিকার দাবি করে, পাকিস্তান সরকার একে ‘সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করছে।

স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া দাবিগুলো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং শান্তি ও সংলাপের আহ্বান উঠেছে।

সূত্র: ISPR অফিসিয়াল বিবৃতি, BLA বিবৃতি, Dawn, Al Jazeera, Reuters, BBC, AFP, The Guardian, AP