পাহাড়ি জনপদে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন তথ্য সচিব

বান্দরবানে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান।
অসীম রায় (অশ্বিনী): বান্দরবান, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে এই গণভোট একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শনিবার (৩১ শে জানুয়ারি) বাংলাদেশ বেতার ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তথ্য সচিব আরও বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোতে পারব।”
মাহবুবা ফারজানা বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, গণভোট ও নির্বাচনের সময় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বেতারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অত্যন্ত কার্যকর। গ্রাম-শহর সর্বত্র বেতারের শ্রোতা পরিসরের কারণে নির্বাচনী ও গণভোটের বার্তা দ্রুত ও সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। তিনি সকলের প্রতি সুষ্ঠু ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা ও ইতিবাচক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বেতার ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে শনিবার সকালে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-এ এই কমিউনিটি ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠান হয়।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুর রহমান, ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বাংলাদেশ বেতারের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনা। গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল—সম্প্রীতির গান, মারমা ভাষায় গান, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় গান, দেশাত্মবোধক গান, পাহাড়ি নৃত্য, নাটিকা, এবং শিশু শিল্পীদের আবৃত্তি।
অনুষ্ঠানটি পাহাড়ি-বাঙালি সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।







