অবশেষে মৃত্যুকে জয় করে ১৯ বছর পর জন্মভূমি বগুড়ায় তারেক রহমান

- দীর্ঘ ১৯ বছর পর জন্মভূমি বগুড়ায় তারেক রহমান, নির্বাচনি জনসভায় আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।
বদিউল আলম লিংকন: দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০৬-২০০৭ সালের পর এই প্রথম তিনি বগুড়ায় সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জন্মভূমিতে ফিরে আসা তার জন্য যেমন আবেগঘন মুহূর্ত, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কারণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনের শুরুতে তিনি রাজশাহীতে শাহ মখদুম (রহ.) এর দরগাহ জিয়ারত করেন এবং সেখানে একটি জনসভায় বক্তব্য দেন। পরে বিকেলে নওগাঁর আতিম ফিল্ডে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আরেকটি জনসভায় অংশ নেন। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর রাত সাড়ে ১১টায় তিনি বগুড়ায় পৌঁছান।
রাত ১২ টার পর বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে শুরু হয় বিএনপির নির্বাচনি জনসভা। জনসভা শুরুর অনেক আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
হাজার হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ মাঠে এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। শহরের বিভিন্ন সড়ক, প্রবেশপথ ও মাঠজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সাজানো হয় পুরো এলাকা। অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে জনসভায় অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর রূপ দেয়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশ কোন পথে এগোবে।
তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে এই নির্বাচনের বিষয়ে খুবই সিরিয়াস হতে হবে। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল স্লোগান হলো—‘কাজ করব, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এ মুহূর্তে আমার দেওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু চাইতে এসেছি। দেশের মানুষ যদি আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়, তাহলে সরকার গঠন করে ১৫ বছর ধরে বঞ্চিত থাকা বগুড়াসহ সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করা হবে।” তিনি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি সারাদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বগুড়াকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করা হয়েছিল। আগামীতে আবার সুযোগ পেলে সেই মডেল সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন কোনোভাবেই সহজ হবে না, তাই সবাইকে এক কাতারে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এই সফর তারেক রহমানের তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ। বগুড়ার কর্মসূচির পর তিনি পরবর্তী সময়ে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাবেন। বগুড়ায় অবস্থানকালে তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনে দুই রাত যাপন করবেন।
দীর্ঘদিন পর জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন এবং বিশাল জনসমাগম তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।







