গণতন্ত্র ও সংস্কারে আপস নয়: জামায়াত আমির

টুইট ডেস্ক: সংস্কার ও গণভোটের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বনানীতে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, অনেকে জুলাই আন্দোলনকে স্বীকার করেন না এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চান না। কেউ কেউ আবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন বলে প্রকাশ্যে বলছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিনয়ের সঙ্গে বলছি—আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করুন, আপনারা সংস্কার চান কি না তা স্পষ্টভাবে জানান।
বিগত সময়ে দেশ থেকে লুট হওয়া অর্থের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে লুট হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় চার গুণ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই লুট করা অর্থ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, এই অর্থ কোনো পরিবার বা গোষ্ঠীর নয়—এটি দেশের জনগণের সম্পদ, যা দেশের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
তিনি দাবি করেন, গত ১৭ মাসে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য কিংবা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। ক্ষমতায় গেলেও এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, পড়ালেখা শেষ করেও অনেক তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং শিক্ষিতদের হাতেই দেশের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে।
ঢাকা-১৭ আসনকে দেশের একটি অভিজাত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকার ভোটাররা যদি জামায়াতকে দায়িত্ব দেন, তবে সেই আস্থার যথাযথ প্রতিদান দেওয়া হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে সমূলে উচ্ছেদ করা হবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জামায়াত হবে কঠোর ও নির্দয়—এমনকি একই অপরাধ করলে দেশের প্রেসিডেন্টকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যোগ্যতা থাকলে একজন শ্রমিকের সন্তানও দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।






