১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ: রাজশাহীতে তারেক রহমান

কৃষি ঋণ মওকুফ, পদ্মা ব্যারেজ ও উত্তরাঞ্চল পুনর্জাগরণের রূপরেখা ঘোষণা তারেক রহমানের। রাজশাহীতে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভা

বদিউল আলম লিংকন: দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মাটিতে পা রেখে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) দাঁড়িয়ে তিনি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ঘোষণা দেন তিনি।

দলীয় নেতার এমন ঘোষনায় উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার লক্ষ করা গেছে।

ছবি: টু্ইট নিউজ

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।”

কৃষি ও সেচ খাতে যুগান্তকারী ঘোষণা

তার বক্তব্যে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট ও কৃষি সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে সেচ সুবিধা বাড়বে, খরা-প্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।

আম উৎপাদনে দেশের শীর্ষ অঞ্চল রাজশাহীর কৃষকদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আম চাষিদের জন্য আধুনিক হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপন করা হবে, যাতে ফসল সংরক্ষণ করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায় এবং দালালনির্ভরতা কমে।

এছাড়া তিনি ঘোষণা দেন, উত্তরাঞ্চলের সেচ ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)–এর প্রকল্পগুলো পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। এর মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা, পানির অভাব ও কৃষি সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিপুল জনসমাগম ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

জনসভাস্থলে সকাল থেকেই রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। হাতে ধানের শীষ প্রতীক, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা সমাবেশে যোগ দেন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল আবেগ ও উচ্ছ্বাস।

এই জনসভা উপলক্ষে তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয়, যা নির্বাচনী মাঠে বিএনপির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

সফরের শুরু ও ধর্মীয় শ্রদ্ধা

তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজশাহী শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি নগরীর দরগাপাড়ায় অবস্থিত হজরত শাহ মখদুম (র.) মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এই সফরকে ঘিরে রাজশাহীতে বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

উত্তরাঞ্চলীয় প্রচারণার অংশ

রাজশাহীর এই জনসভা তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজশাহী সফরের পর তিনি নওগাঁ ও বগুড়ায় আরও জনসভায় অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের পর এটিই তার রাজশাহী সফর, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।

রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়—এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও তরুণ সমাজের জন্য এক আশার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি ঋণ মওকুফ, পদ্মা ব্যারেজ, আম হিমাগার ও বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের ঘোষণাগুলো উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।