সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১১ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরল বম পরিবার

বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দীর্ঘ ১১ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরল বম পরিবার

অসীম রায় (অশ্বিনী): বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্তবর্তী শেরকর পাড়ায় দীর্ঘ ১১ মাস ২২ দিন পর নিজ বাড়িতে ফিরেছে একটি বম পরিবার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহায়তায় পরিবারের ৬ সদস্যসহ এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে।

পরিবারটি ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সহিংসতা ও আতঙ্কের কারণে নিজ পাড়া ছেড়ে ভারতের মিজোরামে চলে যায়। দীর্ঘ ১১ মাস ১৯ দিন পর গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারা হরিনা হয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করে। সেখান থেকে ৩ দিন পর বুধবার বিকেলে বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছায়।

ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনী পরিবারের সকল সদস্যকে খাবার পরিবেশন করে। এছাড়া চিকিৎসা সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনো রসদ প্রদান করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তারা নিজ গ্রাম শেরকর পাড়ার বসতবাড়িতে ফিরে যায়।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য সুনখুপ বম (৭৬) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বাকলাই পাড়া সেনা জোনের থান্দুই পাড়া, সিমত্লাংপি পাড়া, প্রাতা পাড়া, বাকলাই পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চলে যাওয়া বম পরিবারগুলো আস্তে আস্তে ফিরে এসে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে জেনে আমরাও নিজ পাড়ায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিজ গ্রামে ফিরতে পেরে আমরা অনেক কৃতজ্ঞ।”

প্রাতা পাড়ার কারবারি পারকেলিং বম বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা আমাদের পাশে ছিল এবং আছে। তাদের সহায়তায় শূন্য হয়ে যাওয়া বম পাড়াগুলো পুনরায় জীবন ফিরে পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অনেক গর্বের।”

বাকলাই পাড়া সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন আফিফ হাসান জানান, “বম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন, নিরাপত্তা, চিকিৎসা সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” তিনি পাড়ার শিশু-কিশোরদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

এই ঘটনা বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় শান্তি ফিরে আসার এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ধীরে ধীরে নিজ বাড়িতে ফিরে
আসার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। পূর্বে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় শতাধিক বম পরিবার নিজ গ্রামে ফিরেছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়িয়েছে।