সৈনিকদের মজুরি ও ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ: বেতন বাড়ছে

সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টার কাছে পেশ
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন, ভাতা ও আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণে গঠিত সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন মাননীয় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে পেশ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। প্রতিবেদন গ্রহণ করে অর্থ উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সদয় অনুমোদনে সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫ গঠন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমান, বিএসপি, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-কে কমিটির সভাপতি করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটিতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কমিটি গঠনের পর থেকে একাধিক বৈঠক, তথ্যসংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের বেতন কাঠামো, ভাতা, ঝুঁকিভাতা, বিশেষ সুবিধা এবং দায়িত্বভিত্তিক আর্থিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় দেশের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি রাজস্ব পরিস্থিতি এবং জাতীয় বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশকরণ অনুষ্ঠানে কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমানের সঙ্গে কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের একটি সুপরিকল্পিত ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও ভাতা পুনর্গঠন কেবল বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক স্বস্তিই বাড়াবে না, বরং তাদের মনোবল, পেশাগত নিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি বাহিনীতে দক্ষ জনবল ধরে রাখা ও নতুন নিয়োগে আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটির সুপারিশসমূহ কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এরপরই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন বা সংশোধিত বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





