বাংলাদেশে হবে সামরিক ড্রোন উৎপাদন: চীনের সাথে যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর

পূর্ণ প্রযুক্তি স্থানান্তরের আওতায় বগুড়ায় স্থাপিত হবে নতুন UAV ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট। MALE, VTOL ও দেশীয় UAV উৎপাদন করা হবে, যা প্রতিরক্ষা, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হবে।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (BAF) চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন (CETC) ইন্টারন্যাশনাল এর সঙ্গে একটি সরকারি-সরকারি (G2G) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি সামরিক ড্রোন (UAV) উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে, যা পূর্ণ প্রযুক্তি স্থানান্তর (ToT) অন্তর্ভুক্ত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) স্বাক্ষরিত চুক্তি প্রকল্পটির নাম “Establishment of Manufacturing Plant and Transfer of Technology for Unmanned Aerial Vehicles (UAVs)” এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত হবে মিডিয়াম অ্যালটিটিউড লং ইন্ডুরেন্স (MALE), ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (VTOL) এবং অন্যান্য দেশীয় UAVs, যা শুধুমাত্র সামরিক অভিযানে নয়, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার অভিযান এবং সীমান্ত নজরদারিতেও ব্যবহার করা হবে। প্ল্যান্টটি বগুড়ার নতুন একটি এয়ারবেসে স্থাপিত হবে, যেখানে স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থাকবে।

চুক্তির আর্থিক বিবরণ অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬০৮.০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪৯.৮ মিলিয়ন USD), যা প্রাথমিক প্রস্তাবিত ৬৪৩.৬১ কোটি টাকা থেকে নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭০.৬০ কোটি টাকা আমদানি ও ইনস্টলেশনের জন্য ব্যয় হবে, যা চারটি অর্থবছরে (FY2026-27 থেকে FY2028-29) লেটার অফ ক্রেডিট (LC) মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। বাকি ৩৭.৪৭ কোটি টাকা স্থানীয় খরচ যেমন VAT, ব্যাংকিং ফি ইত্যাদির জন্য ব্যয় হবে। ফাইন্যান্স মন্ত্রণালয় ৬ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং চুক্তি ১২ জানুয়ারি বা তার পরে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকল্পের গুরুত্ব বহু দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে আকাশী নজরদারি ও অপারেশনাল দক্ষতায় সহায়ক হবে। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি খরচ কমবে, ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মানবিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করা যাবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চীনের সঙ্গে এই প্রযুক্তি ও উৎপাদন সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়াবে। বর্তমানে প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য সাইট নির্বাচন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। CETC ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় অব্যাহত রয়েছে।