ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ছবি। ছবি: এক্স

ভারত-ইইউ ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ, রাশিয়ান তেল নিয়ে বিতর্ক।

টুইট ডেস্ক: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি যুগান্তকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটিকে “মাদার অফ অল ট্রেড ডিলস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এই চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২৫% আচ্ছাদন করবে এবং দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য বড় একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন করবে।

চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রপ্তানি পণ্যের ৯৬.৬% ট্যারিফ কমানো বা নির্মূল হবে। এতে ইইউ-এর গুডস এক্সপোর্ট ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় রপ্তানি যেমন টেক্সটাইল, জেমস, ফার্মাসিউটিক্যালস, এবং ইইউ-এর কার, ওয়াইন, মেশিনারি ইত্যাদিতে বড় সুবিধা মিলবে। এই ডিল কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং ক্লাইমেট অ্যাকশন, বিনিয়োগ এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকেও শক্তিশালী করবে।

এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন যে, ভারত-ইইউ চুক্তি রাশিয়ার উপর আরোপিত মার্কিন স্যাঙ্কশন ও ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি বলেন, “ইউরোপ রাশিয়া থেকে সরাসরি তেল-গ্যাস না কিনলেও ভারত থেকে তেল কিনছে, যা পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে সহায়তা করছে।”

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে ভারতের রাশিয়ান অয়েল ইমপোর্টের ওপর ৫০% পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করেছিল। বেসেন্টের মতে, এই ডিল ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ ভিত্তিক বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে যায় এবং ইউরোপ-ভারত নতুন বিকল্প অ্যালায়েন্স গড়ছে।

চুক্তিটি কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদ সূত্র: Reuters, The Guardian, BBC, Times