বান্দরবানে ভিডব্লিউবি সঞ্চয় বিতরণে প্রশ্ন: ৩৭ মাসেও ফেরত মেলেনি সঞ্চিত টাকা

বান্দরবানের ভিডব্লিউবি সঞ্চয় বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ। অবশিষ্ট টাকা না পেয়ে নারীদের অসন্তোষ ও হতাশা। থানচিতে ভিডব্লিউবি উপকারীদের সঞ্চিত অর্থ আংশিক বিতরণ।
অসীম রায় (অশ্বিনী): বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৩–২৪ অর্থবছরের ভিডব্লিউবি (Vulnerable Women Benefit) কর্মসূচির আওতাভুক্ত উপকারীদের সঞ্চিত অর্থ আংশিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আয়েশা আক্তার, বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা উশৈপ্রু মারমা এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন মোট ১০০ জন উপকারীর মধ্যে সঞ্চিত অর্থ বিতরণ করা হয়।
জানা গেছে, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক উপকারীর নামে মোট সঞ্চিত অর্থ ছিল ৫ হাজার ২৮০ টাকা—প্রতি মাসে ২২০ টাকা করে ২৪ মাসের হিসাব অনুযায়ী। তবে বিতরণকালে প্রত্যেককে মাত্র ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। বাকি ১ হাজার ২৮০ টাকা না পাওয়ায় উপকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেয়।
উপকারীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও পুরো টাকা না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের জন্য এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আংশিক বিতরণ তাদের হতাশ করেছে।
এ বিষয়ে প্রয়াত উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস সহকারী মো. এমরান হোসেনের স্ত্রী বলেন, তার স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুর কারণে কিছু প্রশাসনিক ও হিসাবজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপাতত প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়াতের দায়িত্ব ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবাই যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন—এ আহ্বানও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতা ও সঞ্চয় রাখা হয়, যা ২৪ মাস শেষে উপকারীদের ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু থানচিতে চলমান এই চক্রে ইতোমধ্যে ৩৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও অনেক উপকারী এখনো পুরো টাকা ফেরত পাননি।
সূত্রমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর–ডিসেম্বর থেকে উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৬৭৪ জন (কিছু সূত্রে ১ হাজার ২২৪ জন) উপকারী তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। প্রয়াত অফিস সহকারী মো. এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। তার মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হয়।
বলিপাড়া ইউনিয়নের পাশাপাশি তিন্দু, রেমাক্রী ও থানচি সদর ইউনিয়নের বহু উপকারী নারী এখনো সঞ্চয়ের সম্পূর্ণ অর্থ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, অফিস সহকারীর মৃত্যুর কারণে অর্থ বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই উপকারীদের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, ভিডব্লিউবি সঞ্চয়সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। উপকারীরা দ্রুত তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন।





