ইরানে হামলার শঙ্কায় ফ্লাইট স্থগিত, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান। ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন, গণ-ফাঁসি বা হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কায় ইরানকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি “বিশাল নৌবহর” পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে ভারত মহাসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছে। যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে এই নৌবহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব ফ্রন্টে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আইডিএফ উত্তর কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় এবং ইরান হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো মাধ্যমে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে, সে জন্য সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মার্কিন সামরিক শক্তিবৃদ্ধির প্রতিটি পদক্ষেপ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা ইতোমধ্যে ইরাক ও ইয়েমেন থেকে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে। ইসরায়েলের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, অঞ্চলটি একটি “অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়”-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে আকাশসীমা বন্ধ করা হতে পারে। এরই মধ্যে ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম তেল আবিব, দুবাই ও রিয়াদসহ একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং ইরান, ইরাক ও ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। ফরাসি এয়ারলাইন এয়ার ফ্রান্স দুবাইয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালু করলেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বৃহৎ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেও তারা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) পর্যন্ত কোনো সরাসরি হামলা শুরু হয়নি। তবে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







