র‍্যাবের বড় সাফল্য: কক্সবাজারে ২৪ কোটি টাকার মাদক জব্দ

ছবি: সংগ্রহিত

কক্সবাজারে ২৪ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার: দুই মাদক কারবারি আটক

টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকায় সাগর উপকূলসংলগ্ন প্যারাবনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হেরোইন। এ সময় দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সাগরপথে পাচার হয়ে আসা মাদকের একটি বড় চালান মজুদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাবের একটি বিশেষ দল উত্তর নুনিয়ারছড়া প্যারাবনে অভিযান চালায়। র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্যারাবনের ভেতরে বালুচাপা অবস্থায় প্লাস্টিকের চটের দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তা খুলে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হেরোইন পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

আটককৃতরা হলেন—চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে মো. ইসমাইল (৪৩) এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মৃত সাবের আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)। র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম খান সোমবার বিকেলে কক্সবাজার ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি সাগরপথে আসা একটি বড় মাদক চালান ছিল এবং অভিযানের মাধ্যমে তা আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। র‍্যাব জানিয়েছে, কক্সবাজার অঞ্চলে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাগর ও স্থলপথে চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজারে মাদক পাচার শুরু

কক্সবাজার মিয়ানমার সীমান্ত ও সমুদ্রপথের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৯০-এর দশক থেকে হেরোইন ও গাঁজা পাচার শুরু হয়। ২০০২ সালের পর মিয়ানমার থেকে ইয়াবা (মেথামফেটামিন) প্রবেশ বাড়তে থাকে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের পর উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্পগুলোকে ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। সাগরপথ, নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ পিস ইয়াবা ও হেরোইন আসছে।

র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান চালালেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এটি কক্সবাজারের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সমস্যার বড় অংশ।

এই ঘটনা কক্সবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।