‘স্বপ্ন সারথি’ কর্মসূচিতে শিক্ষার পথে মানবিক সহযাত্রী এমটিবি ফাউন্ডেশন

ছবি: সংগৃহিত

সাইকেলের চাকার ঘূর্ণনে বদলে যাচ্ছে স্বপ্নের পথ। মঠবাড়িয়ায় এমটিবি ফাউন্ডেশনের ‘স্বপ্ন সারথি’ উদ্যোগে শিক্ষার নতুন ভোর

টু্ইট প্রতিবেদক: দূরের স্কুল, কাঁচা রাস্তা আর দারিদ্র্যের বাস্তবতা—এই তিন বাধার মাঝেও যেসব মেয়ে চোখে চোখ রেখে স্বপ্ন দেখতে চায়, তাদের জন্য একটি সাইকেল কখনো কখনো হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘোরানো উপহার। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের মঠবাড়িয়ায় ঠিক সেই মানবিক বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে এমটিবি ফাউন্ডেশন।

সম্প্রতি মঠবাড়িয়ার এক শান্ত সকালে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘স্বপ্ন সারথি’ নামের বিনামূল্যের সাইকেল। সাইকেল হাতে পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীর চোখে ছিল বিস্ময়, আনন্দ আর দৃঢ় প্রত্যয়ের ঝিলিক—যেন দূরত্ব আর তাদের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এমটিবি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় মেয়েদের শিক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যাতায়াত। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ২০১৫ সালে চালু হয় ‘স্বপ্ন সারথি’ কর্মসূচি, যার মূল কথা—“স্কুলে যেতে দূরত্ব যেন বাধা না হয়।”

এই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। মঠবাড়িয়ার এই বিতরণ সেই ধারাবাহিকতারই এক মানবিক সংযোজন।

স্থানীয় শিক্ষকরা বলেন, নিরাপদ যাতায়াতের অভাবে অনেক মেয়েই একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। একটি সাইকেল তাদের শুধু স্কুলে পৌঁছাতে সাহায্য করে না, বরং আত্মবিশ্বাসও জাগিয়ে তোলে। অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে মেয়েদের শিক্ষায় আগ্রহ ও উপস্থিতি বাড়বে।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের ২০২৬ সালের থিম—“The power of youth in co-creating education” এর সঙ্গে এই উদ্যোগের মিল খুঁজে পান অনেকে। কারণ, ‘স্বপ্ন সারথি’ শুধু সহায়তা নয়; এটি মেয়েদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার এক নীরব প্রয়াস।

এমটিবি ফাউন্ডেশন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের সিএসআর শাখা হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। মঠবাড়িয়ার এই সাইকেল বিতরণ প্রমাণ করে, কর্পোরেট দায়বদ্ধতা যখন মানবিক স্পর্শ পায়, তখন তা সমাজ বদলের শক্তি হয়ে ওঠে।

মঠবাড়িয়ার সেই সকাল শেষে সাইকেলের চাকায় যখন ঘুরছিল ধুলোভরা রাস্তা, তখন অনেক কিশোরীর মনে একটাই বিশ্বাস জন্ম নিচ্ছিল—শিক্ষার পথটা এখন আর এতটা দূরের নয়।