জুলাই হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিব

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজন পলাতককে মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান।

টুইট প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকালীন পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ঘটনায় প্রথম উল্লেখযোগ্য বিচারিক সিদ্ধান্ত এলো।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম—সকলেই পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগপত্র অনুসারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন) চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে নিহত হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক—মোট ছয়জন। এছাড়া বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করা হয়।

একই রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে প্রত্যেককে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমরুলও পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

এই মামলায় মোট আসামি ছিলেন আটজন, যাদের মধ্যে চারজন প্রধান আসামি পলাতক। রায় ঘোষণার আগে ২০ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারিত ছিল, কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা ২৬ জানুয়ারিতে স্থগিত করা হয়েছিল। এ ঘটনা ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।