নির্বাচনি প্রচারণা ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশোধিত আচরণবিধি অনুযায়ী, এই প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
ইসির ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি ৬ (ঙ) অনুযায়ী, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়—এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা সমাবেশ করা যাবে না। প্রার্থী বা দলের পক্ষে অন্য কেউও এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারবেন না।
প্রচারণায় সমান অধিকার ও অনুমতির বাধ্যবাধকতা
বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রচারণায় সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন এবং কোনো প্রতিপক্ষের কর্মসূচিতে বাধা বা ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। জনসভা বা পথসভা করতে হলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। সভার দিন, সময় ও স্থান উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে এবং কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করতে হবে। একটি জনসভায় সর্বোচ্চ তিনটি মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে।
পোস্টার নিষিদ্ধ, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রীর নির্দেশ
নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন, রেক্সিন বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না। ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এসব সামগ্রীতে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।
যানবাহন, দেয়াল ও সরকারি স্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা
কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটি এবং সরকারি স্থাপনায় প্রচারণা সামগ্রী লাগানো যাবে না। বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চ, রিকশা বা অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনে প্রচারসামগ্রী সাঁটানোও নিষিদ্ধ।
মিছিল, শোডাউন ও তোরণ নির্মাণে কড়াকড়ি
নির্বাচনি প্রচারণায় যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা জনসভা করা যাবে না। মশাল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো ক্যাম্প, তোরণ বা গেট নির্মাণ করা যাবে না। দেয়াল লিখন বা ছবি এঁকেও প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ।
আচরণবিধি ও উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষা
প্রচারণাকালে কুৎসা রটনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন বা সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন বক্তব্য দেওয়া যাবে না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। ভোটারদের প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করাও দণ্ডনীয় অপরাধ।
ইসি জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






