নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজ স্বার্থে ওসমান হাদিকে বিক্রি করছেন: কাদের

টুইট ডেস্ক: প্রায়ই নিজের কথার কারণে আলোচনায় আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার-ও (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে গণসংযোগকালে তার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করে বলেন, নাসীরুদ্দীনকে ক্ষেপাবেন তো তাহলে আপনার হাফ-প্যান্ট খুলে যাবে। কারণ, আমরা শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিয়েছিলাম। শুধু হাফপ্যান্ট খুলে দিই নাই, তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আমার সাথে কখনো হাংকি-পাংকি করবেন না। করতে চাইলে অন্য কোথাও গিয়ে করেন। আমার সাথে যদি হাংকি-পাংকি করার চেষ্টা করেন, সমুচিত জবাব দেব। কারণ, আমি এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, তোমার টাকা আছে আমরা শুনতে পাচ্ছি গাড়িতে করে তারা হকিস্টিক, স্ট্যাম্প নিয়ে ঘুরাফেরা করে। গুলিস্তানে নাকি স্ট্যাম্প এবং হকিস্টিক পাওয়া যাচ্ছে না। সব নাকি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আসুন খেলা হবে দেখি কেমন খেলা খেলতে পারেন। মেরে ফেলবেন? এক হাদি মারা গিয়েছে, লক্ষ হাদি এই আসনে দাঁড়াবে, তবুও এই ৮ (ঢাকা-৮) আসন আমরা ছাড়ব না।

তার এই বক্তব্যের পর তারই বর্তমান ও সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার সমালোচনায় মেতে উঠলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ তার দলের নেতাদের উদ্দেশ করে এনসিপি থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা তাজনূভা জাবীন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, হওয়ার কথা ছিল গণঅভ্যুত্থানের নেতা, হয়ে গেছে ওবায়দুল কাদের আর শামীম ওসমান। এত মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে একেকজন উদ্ধত, বেয়াদব বের হইসে। একেকজনের বক্তব্য দেখতেসি আর নিজেকে বিশ্বাস করাচ্ছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গর্ভ থেকে কোন পর্যায়ের ধান্দাবাজ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কথা বলার সময় এই অহংকার, এই দাম্ভিকতা পরিষ্কার প্রমাণ এদের দৈন‍্যতা সম্পর্কে, মানুষ হিসেবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে।

তাজনূভা জাবীন আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তো আছে; কিন্তু নীতি, শিক্ষা, মূল‍্যবোধ, আদর্শে ঘোড়ার ডিম। নিজের চোখে না দেখলে আমি বিশ্বাস করতাম না এরা কী অসহনীয় পর্যায়ের অযোগ্য। আমি নিশ্চিত, যারা পুরোনো চাঁদাবাজ আর ধর্ম ব্যবসায়ী তারা না; নতুন যারা ধান্ধায় নামছে এরাই সবচেয়ে বড় বেঈমান আর প্রতারক। বাকিদের মানুষের ঘৃণা কামাইতে যুগের পর যুগ লাগসে, এরা দেড় বছরে ওই পর্যায়ে চলে গেসে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী এখন যা করতেছে, যা বলতেছে, সেটা স্রেফ নোংরামি। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা বাঁধানোর জন্য তিনি ওঠে পড়ে লেগেছেন। নিজের স্বার্থে ওসমান হাদী ভাইকে বিক্রি করতেছেন। পাঁচই আগস্টের পরে এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসুক, সেটা আমরা কখনো চাই নাই, এ দেশের মানুষও চায় না।

আন্দোলনে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর ভূমিকার বিষয়েও প্রশ্ন টেনে তিনি বলেন, নাসীর ভাই আন্দোলনে এই করছেন, সেই করছেন বলে হম্বিতম্বি করতেছেন। কিন্তু আমি-আমরা তেমনটা দেখি নাই।

আব্দুল কাদের আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরপরই বাংলামোটরে ‘বিয়াম’-এ আসিফ-নাহিদ-মাহফুজ ভাইদের সাথে আমাদের প্রথম মিটিং হইছিল। মিটিংয়ে আমরা যারা ১৯ জুলাই থেকে আন্দোলন টেনে নিয়ে গিয়েছিলাম, সেই জুনিয়র লেয়ারের সদস্যরা একটা কনসার্ন জানিয়েছিলাম- ‘নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ভাই কোথেকে এসে লিয়াঁজো কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ভাগিয়ে নিলেন? তাছাড়া তাকে তো বিশ্বাস করার উপায় নাই। তিনি শিবির, ছাত্র ফেডারেশন, এবি পার্টি ভেঙে আসা লোক; তিনি আবারও যে আমাদের এই নতুন উদ্যোগকে ভেঙে দেবেন না, সেটার গ্যারান্টি কি?

আন্দোলনে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর অবদানের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ভাই বললেন, নাসীর ভাই নাকি তাকে আন্দোলনের সময় একদিন আশ্রয় দিয়েছেন, আর ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনের দিন তাকে হেল্প করেছেন।’

আমাদের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, এতটুকু অবদান এবং তার অতীত ইতিহাস বিবেচনায় কী তাকে লিঁয়াজো কমিটির মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া উচিত হবে কি না। জবাবে নাহিদ ভাইরা বললেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী সিনিয়র মানুষ, তার এক্সপেরিয়েন্সকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য তাকে আমাদের প্রয়োজন। তারপর তো অনেক শপথ-টপত হইলো সেখানে। নাসির ভাই অঙ্গীকার করলেন, তিনি অতীতের মতো এই পার্টি ভাঙবেন না। কিন্তু এখন এসে আমরা সেই অঙ্গীকারের ছিটেফোঁটাও দেখতে পেলাম না! আফসোস….’।