যমুনা সেতুতে দুর্ঘটনা: পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কা-মুচড়ে গেল মানিক পরিবহনের বাস

যমুনা সেতু কাঁপাল ট্রাক–বাস দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল প্রাণ।
নিজস্ব প্রতিনিধি: যমুনা সেতুর মাঝামাঝি অংশে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বগুড়া থেকে ঢাকাগামী মানিক পরিবহন-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৯৪৮ বাসটি বিকাল ৫টায় বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্যেশে ছেড়ে আসে।
ট্রাক ড্রাইভার জানায়, গাড়িতে ১৪টন মালামালসহ গাড়ি ওজন ১৭টন হওয়ায় দ্রুত ব্রেক করে সামলানো যায়নি। তবে যাত্ররা বলেন, ট্রাকের ড্রাইভারের চোখে ঘুম ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে দেখা যায়, হলুদ রঙের ট্রাকটির (নিবন্ধন নম্বর: ঢাকা মেট্রো ট–১৫-৫৯৬০) সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ট্রাকের উইন্ডশিল্ড ভেঙে চুরমার হয়ে কেবিনের ভেতরের অংশ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বাসটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধাতব কাঠামো বেঁকে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে আটকে যায়। সেতুর আলোয় রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনাস্থল দেখে যে কারও গা শিউরে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাসটির পেছনে সজোরে আঘাত করে। ধাক্কার তীব্রতায় বাসটি সামনের দিকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হলেও সেতুর রেলিংয়ের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এমন ভয়াবহ সংঘর্ষে সাধারণত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও অলৌকিকভাবে কোনো যাত্রী, চালক বা হেলপার হতাহত হননি।
দুর্ঘটনার পর বাসে থাকা যাত্রীরা চরম আতঙ্কে পড়লেও সবাই নিরাপদে বাস থেকে নেমে আসতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ট্রাকচালকের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকচালকের চোখে ঘুমঘুম ভাব লক্ষ্য করা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, যমুনা সেতুতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও এবারের সংঘর্ষের তীব্রতা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ড্রাইভা ও যাত্রীদের প্রাণরক্ষা পাওয়াকে অনেকেই আল্লাহর রহমত বলছেন যাত্রীরা।







