ইইউ-ভারতের নতুন সিকিউরিটি ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের পথে

ছবি: সংগৃহিত, এক্স

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ইইউ-ভারত অংশীদারিত্ব নিশ্চিতের পথে।

টুইট প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ভারতের মধ্যে নতুন সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পার্টনারশিপ স্বাক্ষরের পথে অগ্রগতি হয়েছে। ইইউ-এর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসি কাজা কালাস ২১ জানুয়ারি ২০২৬-এ স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্লেনারি সেশনে এ ঘোষণা দেন।

কালাস বলেন, “ইউরোপ ভারতের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নতুন অ্যাজেন্ডা পূরণের জন্য প্রস্তুত। আজ আমরা নতুন পার্টনারশিপ স্বাক্ষরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটি মেরিটাইম সিকিউরিটি, কাউন্টার-টেররিজম এবং সাইবার-ডিফেন্সে সহযোগিতা বাড়াবে। আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইইউ-ইন্ডিয়া সামিটে আমরা এটিতে স্বাক্ষর করব।”

পার্টনারশিপ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ওপেন সি লেনস রক্ষা, মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি এবং কোয়ার্সন প্রতিরোধে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া সিকিউরিটি অফ ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (SOIA) নিয়ে আলোচনা শুরু হবে, যা ক্লাসিফাইড ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং সহজ করবে। ইইউ-এর SAFE প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভারতীয় কোম্পানিগুলো €১৫০ বিলিয়ন ফান্ডিং-এ অংশ নিতে পারবে।

ইইউ-ভারত সামিট ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইইউ-এর পক্ষে কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েন ও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা, এবং ভারতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নেবেন। সামিটে কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক অ্যাজেন্ডা ২০৩০ গ্রহণ করা হবে, যা ট্রেড, সিকিউরিটি, টেকনোলজি ও মোবিলিটিতে সহযোগিতা বাড়াবে। এছাড়া ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে, যা ক্লিন টেক, ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করবে।

বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ইইউ-ভারত সম্পর্কের পিভটাল মোমেন্ট হিসেবে দেখছেন। ইইউ ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: Reuters, The Hindu, Tribune India, NDTV, ANI