গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পক্ষে যুক্তরাজ্য-ডেনমার্ক

ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ন্যাটোর দৃষ্টিভঙ্গি শান্তিপূর্ণ থাকা উচিত, তবে মিত্র দেশগুলোর আরও বেশি সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ ও ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা। এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, হাই নর্থ অঞ্চলে ন্যাটোর শক্তিশালী উপস্থিতি জরুরি।

টুইট প্রতিবেদক: ন্যাটোর গ্রিনল্যান্ড নীতি শান্তিপূর্ণ থাকবে, তবে মিত্র দেশগুলোর আরও শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি জরুরি—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ ও ডেনিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কোপেনহেগেনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোলস লুন্ড পৌলসেন বলেন, গত দুই বছর ধরে যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক হাই নর্থ অঞ্চলে ন্যাটোর দৃশ্যমান ও কার্যকর উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তেজনা

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। যদিও পরে তিনি বলপ্রয়োগ করবেন না বলে জানান এবং কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বকে কেন্দ্র করে আর্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

রাশিয়ার কার্যকলাপে ন্যাটোর উদ্বেগ

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, আর্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও কার্যক্রম বৃদ্ধি ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া ও দৃঢ়তা পরীক্ষা করছে। এ প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

ন্যাটো মিশনের প্রস্তাব

ট্রোলস লুন্ড পৌলসেন জানান, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যৌথভাবে ন্যাটোর একটি নজরদারি বা মিশন প্রস্তাব ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের কাছে উপস্থাপন করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি ব্রাসেলসে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্টের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ঘূর্ণায়মান উপস্থিতি

ডেনমার্ক ইতোমধ্যে নুক ও কাঙ্গারলুসুয়াকে সেনা মোতায়েন করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে। জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যরা ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্থায়ী উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা পুরো ন্যাটো জোটের একটি সাধারণ উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখার পাশাপাশি আর্টিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম