পাহাড়ি জনপদে শীত শিহরণ কাটাতে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা

পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে শীত শিহরণ কাটাতে ২০০ পরিবারের হাসি ফোটাল সেনাবাহিনী। স্থানীয়রা ফুলের মালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমানকে বরণ।
অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: পাহাড়ি জনপদের কঠিন শীত উপেক্ষা করে থানচির দুর্গম কমলা বাগান এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবানের আলীকদম সেনা জোন। মানবিক এই উদ্যোগে শীতবস্ত্র পেয়ে নতুন করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় মার্মা, চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষগুলো।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন কমলা বাগান এলাকার তিনটি পাহাড়ি পাড়ায় মোট ২০০টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র হাতে পেয়ে শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ—সবাইয়ের চোখেমুখে ফুটে ওঠে সন্তোষ আর কৃতজ্ঞতার ঝলক।

ছবি: নিজস্ব
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। স্থানীয় জনগণ ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেয় এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যা পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃশ্য হিসেবে সবার মনে দাগ কেটে যায়।
এলাকাবাসী জানান, সেনাবাহিনী তাদের পাশে আছে বলেই তারা আজ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন। কেউ কেউ বলেন, শীতের এই সময়ে একটি কম্বল শুধু কাপড় নয়, তাদের জন্য যেন নিরাপত্তা ও ভালোবাসার প্রতীক।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, পাহাড়ি এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আলীকদম সেনা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গ্রুপের যেকোনো তৎপরতা সম্পর্কে সেনাবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতে যেমন জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে।
মানবিক এই আয়োজনকে ঘিরে কমলা বাগান এলাকার বহু মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। অনেকে বলেন, শুধু কম্বল নয়, সেনাবাহিনীর এই সশ্রদ্ধ উপস্থিতি তাদের মনে নিরাপত্তা ও আস্থার উষ্ণতা জাগিয়ে তোলে।






