বান্দরবানে শিশু সাংবাদিকতার দুই দিনব্যাপী কর্মশালা সমাপ্ত

শিশুদের কণ্ঠে সমাজের গল্প: সৃজনশীলতায় এগোচ্ছে বান্দরবানের শিশুরা।

বান্দরবান প্রতিনিধি: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু সাংবাদিকতার দুই দিনব্যাপী কর্মশালা। ইউনিসেফের অংশীদারিত্বে হ্যালো ডট বিডিনিউজ ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহ-ফিচার সম্পাদক, ঢাকা প্রতিনিধি ও ইটিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি হাসান বিপুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুর ইসলাম বাচ্চু। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিনারুল হক। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বিডিনিউজের উসিথোয়াই জেলা প্রতিনিধি।

কর্মশালায় ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ ও ফিচার লেখা, মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি, মিডিয়া উপস্থাপনা, শিশু অধিকার এবং নিরাপদ সাংবাদিকতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুরা আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেয় এবং নিজেদের ভাবনা প্রকাশের নতুন পথ খুঁজে পায়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের কণ্ঠস্বর সমাজে তুলে ধরতে শিশু সাংবাদিকতা একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা ভবিষ্যতে দক্ষ ও সচেতন সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে পারবে।

উল্লেখ্য, হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বিশ্বের প্রথম বাংলা শিশু সাংবাদিকতা বিষয়ক ওয়েবসাইট, যা ২০১৩ সাল থেকে ইউনিসেফ ও বিডিনিউজ২৪ ডটকমের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের সামাজিক সচেতনতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক অসীম রায় (অশ্বিনী) অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই উদ্যোগ কেবল একটি কর্মশালা নয়, এটি শিশুদের হৃদয়ে স্বপ্নের দীপ জ্বালানোর এক সৃজনশীল যাত্রা। শব্দ, ছবি আর ভাবনার ডানায় ভর করে শিশুরা এখানে নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পায়।”

আগামী দিনের আলোকিত পথ নির্মাণে এই উদ্যোগ তাদের মনে সাহস, সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করবে—যা ভবিষ্যৎ গঠনে এক অনন্য ও স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।