বন্ডি হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় কঠোর অস্ত্র ও ঘৃণাবিরোধী আইন পাস

ছবি: Reuters

গণগুলির তাণ্ডবের পর অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ দমন আরও কঠোর করা হলো।

টুইট প্রতিবেদক: বন্ডি বিচে ভয়াবহ গণগুলির ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ দমনে আরও কঠোর আইন পাস করেছে। পার্লামেন্ট জাতীয় পর্যায়ে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি (গান বাইব্যাক), আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে কঠোর পটভূমি যাচাই এবং ঘৃণাজনিত অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান সংবলিত দুটি বিল অনুমোদন করেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বিশেষ অধিবেশনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই বিল দুটি পাস হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি উৎসব চলাকালে সংঘটিত বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকার দ্রুত এই আইন সংস্কার করে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার হত্যাকাণ্ডের পর চালু হওয়া কর্মসূচির পর এটিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় জাতীয় অস্ত্র ফেরত অভিযান। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি আইন কঠোর করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (ASIO)-এর তথ্য ব্যবহার করে রাজ্যভিত্তিক অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, “যাদের হৃদয়ে ঘৃণা আর হাতে বন্দুক—তারাই বন্ডির মতো মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী। এই ট্র্যাজেডি সরকারের কাছ থেকে সমন্বিত ও শক্ত প্রতিক্রিয়া দাবি করে।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ লাখের বেশি, যার মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি—যে রাজ্যে বন্ডি হামলাটি ঘটে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিলটি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ও গ্রিনসের সমর্থনে পাস হলেও বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এর বিরোধিতা করেছে। তবে ঘৃণাজনিত অপরাধ সংক্রান্ত বিলটি লিবারেল পার্টির সমর্থন পেয়েছে।

দ্বিতীয় বিলে ধর্মীয় বিদ্বেষসহ ঘৃণাজনিত অপরাধে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ঘৃণা ছড়ায় এমন সংগঠন নিষিদ্ধ এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “বন্ডি হামলা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন সংস্কারের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহিংসতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশ এটিকে বৈধ অস্ত্রধারীদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।