রাবিপ্রবির শিক্ষক ভুয়া সনদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে চাকরিচ্যুত

ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ, জাল স্বাক্ষর ও তথ্য গোপনের অভিযোগে রাবিপ্রবি সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল সিকদারকে চাকরিচ্যুত।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল সিকদারকে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ, জাল স্বাক্ষর এবং তথ্য গোপনের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল সিকদারের বিরুদ্ধে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিএসই বিভাগের প্রধান ও রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া লেটারহেড ব্যবহার এবং এসবের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে রাবিপ্রবি প্রশাসন তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটিগুলোর প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৯ম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয় এবং তার পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রাপ্ত সব বেতন ও আর্থিক সুবিধা দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছেন, নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আতিয়ার রহমান বলেন, “সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”
অভিযুক্ত জুয়েল সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। সময়মতো আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসবো।” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তাকে প্রক্টর পদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায্যতা, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা প্রদান করছে।






