স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় শোক জানাল বাংলাদেশ

ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
টুইট প্রতিবেদক: স্পেনের ভয়াবহ হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পেরেজ-কাস্তেজোঁকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে প্রফেসর ইউনূস বলেন, স্পেনের কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর বাংলাদেশে গভীর বেদনার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে পুরো স্প্যানিশ জাতির এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশ তাদের পাশে আছে—এমন বার্তাও দেন তিনি।

ছবি: একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং স্প্যানিশ সিভিল গার্ডের সদস্যরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ট্রেনের একটি বগির পাশে কাজ করছেন। ছবি: সুসানা ভেরা/রয়টার্স
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ শহরের কাছে মাদ্রিদ–সেভিল হাই-স্পিড রেল লাইনে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ইরিও (Iryo) কোম্পানির একটি হাই-স্পিড ট্রেনের শেষ তিনটি বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিকের ট্র্যাকে চলে যায়। ঠিক সেই সময় মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী রেনফে (Renfe) কোম্পানির আলভিয়া (Alvia) ট্রেনটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ফলে উভয় ট্রেনের একাধিক বগি উল্টে যায় এবং কয়েকটি বগি রেললাইন সংলগ্ন এম্ব্যাঙ্কমেন্ট থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ভয়াবহ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ থেকে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন ১২২ থেকে প্রায় ৩০০ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং নিহতদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইনের একটি broken rail joint বা ত্রুটিপূর্ণ ওয়েল্ডের কারণেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। যদিও ওই ট্র্যাকটি ২০২৫ সালের মে মাসে নবায়ন করা হয়েছিল এবং ট্রেনগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এ কারণে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্তে দুর্ঘটনাটিকে “অত্যন্ত অদ্ভুত” বলে উল্লেখ করেছেন। সরকার স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদ্রিদ–আন্দালুসিয়া হাই-স্পিড রেললাইন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে স্পেনে ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এটিকে দেশের জন্য “গভীর বেদনার রাত” বলে আখ্যা দেন।
প্রফেসর ইউনূসের পাঠানো সমবেদনা চিঠিকে এই শোকের সময়ে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে মানবিক সংহতি ও পারস্পরিক সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল। দুই দেশের জনগণের বন্ধন ও সহমর্মিতার এই বার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরেও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।







