বাসরঘর থেকে আদালত: কনে বদলের ভাইরাল গল্প

ছবি: সংগৃহিত

বাসর রাতে চমক: কনে বদলের অভিযোগের পর বরই কারাগারে।

টুইট প্রতিবেদক: মুখ ধুয়ে ফিরে তাকাতেই বর রায়হানের বুক ধক করে উঠল। এই কি সেই মুখ? এই কি সেই মানুষ—যাকে দেখেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল?

বাসরঘরের নরম আলো, ফুলের গন্ধ, নতুন জীবনের স্বপ্ন—সব মুহূর্তেই যেন হঠাৎ থমকে গেল। একটু আগে যে কনে ভারী মেকআপে বসেছিল, মুখ ধোয়ার পর তাকে দেখে রায়হানের মনে হলো, গল্পটা অন্য কারও। আর সেই মুহূর্ত থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের এক বিয়ের গল্প পরিণত হলো আদালতের নথিতে।

গত বছরের ১ আগস্ট। রাণীশংকৈলের ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে পীরগঞ্জের চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের বিয়ে। বিয়ে শেষে আনন্দ, খাওয়া-দাওয়া, হাসি-ঠাট্টা—সবই ছিল। কিন্তু রাত গভীর হতেই চায়ের কাপে চিনি গলার মতো সহজ থাকেনি ঘটনাপ্রবাহ।

বরপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের আগে যাকে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে সে নারী ছিলেন না। ঘটকের দেখানো মেয়ের সঙ্গে বর্তমান কনের মিল নেই—এমন দাবিতে উঠল ‘কনে বদল’-এর অভিযোগ। কথাটা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় কানাঘুষা, তারপর বৈঠক, তারপর আরও জটিলতা।

মীমাংসা হলো না।
২৭ আগস্ট কনের বাবা মামলা করলেন বর ও তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে।
এর পাল্টা জবাব এলো ২ সেপ্টেম্বর—বর রায়হানের মামলা কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে।
শেষমেশ, ১৯ জানুয়ারি আদালত রায়হানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পাঠালেন কারাগারে।

বরের মামা বাদলের ভাষ্য,
“চায়ের দোকানেই মেয়েটাকে প্রথম দেখানো হয়েছিল। অতিরিক্ত মেকআপে তখন বোঝা যায়নি। বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পরই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। আমাদের বিশ্বাস—এটা পরিকল্পিত।”

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“কনে বদলের প্রশ্নই আসে না। ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতেই মেজো মেয়েকে দেখে গেছে। বরযাত্রী ছিল প্রায় ৭০ জন। বিয়ের পরদিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক চেয়েছে—এখন সেটাই ঢাকতে মিথ্যা অভিযোগ।”

ঘটক মোতালেবও দায় অস্বীকার করে বলেন,
“মেয়েটাকে তার বাবার বাড়িতেই দেখানো হয়েছিল। দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত ছেলেপক্ষই নিয়েছে।”

এখন সেই বিয়ের গল্প আর চায়ের দোকানে আড্ডার বিষয় নয়—নথিভুক্ত হয়েছে আদালতের ফাইলে। কে সত্য বলছে, কে মিথ্যা—তার শেষ কথা বলবে বিচার।
আর রাণীশংকৈলে এখনো মানুষ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলছে—
“বাসরঘরের সেই এক মুহূর্তেই সব ওলটপালট হয়ে গেল!”