ভারতের সেই পুলিশের সিভিল রাইটস ডিজিপি সাসপেন্ড

ছবি: এক্স

কর্ণাটক সরকার অশোভন আচরণের অভিযোগে ডা. কে. রামচন্দ্র রাও-কে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেছে।

টুইট প্রতিবেদক: কর্ণাটক সরকার অশোভন আচরণের অভিযোগে পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল রাইটস এনফোর্সমেন্ট ডা. কে. রামচন্দ্র রাও (KN:1993)-কে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেছে।

এই সিদ্ধান্ত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা সরকারি আদেশ (নম্বর: DPAR/26/SPS/2026) অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।

সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন পাবলিক নিউজ চ্যানেল এবং মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ডা. রামচন্দ্র রাও সরকারি কর্মচারীর মর্যাদার অযোগ্য অশোভন আচরণ করেছেন, যা রাজ্য সরকারের জন্য লজ্জাজনক। এই আচরণ অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কন্ডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮-এর রুল ৩ লঙ্ঘন করেছে বলে সরকার মনে করছে।

আদেশে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছে যে অনুসন্ধান চলাকালীন অফিসারকে সাসপেন্ড করা প্রয়োজন। সাসপেনশন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সাসপেনশনের সময়, ডা. রামচন্দ্র রাও অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৬৯-এর রুল ৪ অনুসারে সাবসিসটেন্স অ্যালাউয়েন্স পাবেন। তবে এই সময়ে তিনি রাজ্য সরকারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হেডকোয়ার্টার ত্যাগ করতে পারবেন না।

আদেশটি কর্ণাটকের গভর্নরের নামে এবং কে. ভি. অশোকা, আন্ডার সেক্রেটারি টু গভর্নমেন্ট এর স্বাক্ষরে জারি করা হয়েছে। এটি ভারতের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ, হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়, কর্ণাটকের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, হোম ডিপার্টমেন্ট, ডিজিপি এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিতর্কিত ভিডিও: অফিসে মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ

কর্ণাটক পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. রামচন্দ্র রাও-এর বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যখন একটি ভিডিও সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অফিসের সময় মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং আপত্তিকর আচরণ করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি গোপনভাবে অফিসে রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহিলারা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পোশাকে অফিসে এসেছেন এবং ডা. রাও তাদের আলিঙ্গন ও চুম্বন করছেন। সেই সময় তিনি পুলিশের ইউনিফর্মে এবং অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিলেন।

যদিও মহিলাদের ওপর জোরপূর্বক কোনো কার্যক্রমের অভিযোগ নেই, তবু এই আচরণ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার জন্য প্রত্যাশিত নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

জনমত ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি সরকারি অফিসে এবং অফিসিয়াল সময়ে ঘটায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই আচরণ প্রমাণিত হয়, তবে তা পুলিশ বাহিনীর নৈতিক ক্ষমতা এবং সাধারণ বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ইতিমধ্যেই কর্নাটকের প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধারমাইয়াহর নজরে এসেছে। ভিডিও প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল ঘটনার প্রতি নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

বর্তমানে জনমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তার শৃঙ্খলাগত ও আইনগত জবাবদিহিতা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। ভিডিওটির প্রমাণিকতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এটি পুনরায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছে।

কর্ণাটক পুলিশের সিভিল রাইটস ডিজিপি-এর এই সাসপেনশন ও বিতর্ক রাজ্য পুলিশের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং অফিসিয়াল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনা কর্ণাটক পুলিশ প্রশাসনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।