দ্বিগুণ হতে চলেছে সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা

নবম পে-স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে!
টুইট প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বৈশাখী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় বেতন কমিশন নবম পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০% থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০% করার প্রস্তাব করছে।
আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ হিসেবে জমা দেওয়া হবে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। তবে পে-কমিশনের নতুন সুপারিশে এটি ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা তাদের উৎসবকালীন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। বেতন কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, বিষয়টি কমিশনের মধ্যে একমত হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে বড় কর্মকর্তা পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীর মূল বেতন কাঠামোও নবম পে-স্কেলে পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও পে-কমিশন চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও করছে। এর মধ্যে চিকিৎসা ভাতা পুরনো ৩,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে ৪০ বছরের নিচের কর্মচারীরা মাসে ৪,০০০ টাকা এবং ৪০ বা তার উপরে বয়সী কর্মচারীরা ৫,০০০ টাকা পাবেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও মাসে ৫,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এ পর্যায়ের সুপারিশগুলি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেনি এবং বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১,০৬,৬৮৪ কোটি টাকা রেখেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি রাখা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের উৎসবভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বড় পরিমাণে বাড়বে, ফলে তাদের মোট আয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।






