মাদককে ‘লাইফস্টাইল’ বানানো ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি

ভিউ–লাইক বাড়াতে তরুণদের মাদক ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সাররা।

বিশেষ প্রতিবেদন: সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক ভয়ংকর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে—কিছু তথাকথিত “ইনফ্লুয়েন্সার” তরুণদের মধ্যে মাদক সেবনকে স্বাভাবিক, আকর্ষণীয় কিংবা নিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

বিভ্রান্তিকর ‘গাইডেন্স’-এর দায় ইনফ্লুয়েন্সার ও প্ল্যাটফর্ম—দু’পক্ষেরই।

এমন প্রবণতাকে ভয়াবহ ও বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুস্পষ্ট সত্য হলো—সব ধরনের মাদকদ্রব্যেরই মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যার অনেকগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে।

বিশেষ করে অবৈধ মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বহুগুণ বেশি, কারণ এসব মাদক কোথায় তৈরি হয়েছে, কী উপাদান মেশানো হয়েছে, কিংবা বিক্রেতার উদ্দেশ্য কী—তা জানার কোনো উপায় নেই।

বিভিন্ন দেশে এমন ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে অবৈধ মাদকে সায়ানাইড, ভাঙা কাচ, এমনকি পশুর ডিওয়ার্মিং ওষুধ মেশানো ছিল—যা মানবদেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে এইডস-সদৃশ ত্বক ও ইমিউন জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর “গাইডেন্স”-এর ফলে যদি একজন তরুণও শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এর দায় শুধু ওই ইনফ্লুয়েন্সারদের নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকেও নিতে হবে। কারণ, এসব প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব টার্মস অব সার্ভিস স্পষ্টভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করে।

প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব হল ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট নিরাপদ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ও অপসারণ করা।
অনেক দেশ ইতোমধ্যে শিশুদের জন্য সুরক্ষা নীতি ও বয়স যাচাই শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময়—সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার। মাদক সেবনে উৎসাহ প্রদানকারী বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করতে হবে।

তরুণদের জীবন নিয়ে কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা চলতে পারে না। ভিউ, লাইক ও ফলোয়ারের লোভে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলা অপরাধ—এবং তা অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।