আঞ্চলিক নৌ নিরাপত্তায় কৌশলগত জোট গড়ছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক

- আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নৌসহযোগিতা সভায় অংশ নেয় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
- যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নৌবাহিনী সহযোগিতা ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের নৌবাহিনী সদর দপ্তরে (Deniz Kuvvetleri Komutanlığı Karargâhı) ৩য় বাংলাদেশ–তুরস্ক নৌবাহিনী সহযোগিতা সভা (3rd Türkiye-Bangladeş Deniz Kuvvetleri İş Birliği Toplantısı) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাটি শুরু হয় ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ১৫–১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এতে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে, যা দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।
তুরস্কের পক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান তুগামিরাল গোকচেন ফিরাত (Tuğamiral Gökçen Fırat)। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তুমামিরাল মির এরশাদ আলী (Tümamiral Mir Ershad Ali), বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার।
সভায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও সুসংহত করা, নৌসহযোগিতা সম্প্রসারণ, পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যৌথ কার্যক্রম ও অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মিল্লি সাভুনমা বাকানলিগি (Milli Savunma Bakanlığı)-এর সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই সভার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি তুরস্কের সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট, যেমন @tcsavunma এবং @timesofdefencee, সভা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।
এছাড়া Turkish Defence Agency (@tdefenceagency) এই বৈঠককে “বাংলাদেশ–তুরস্ক নৌসহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ” হিসেবে উল্লেখ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে নৌ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, ড্রোন প্রযুক্তি (যেমন Bayraktar), হেলিকপ্টার (T129 ATAK), প্রশিক্ষণ, যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর।
বিশেষ করে ২০২৫–২০২৬ সময়কালে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গতি পায়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো এই সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩য় বাংলাদেশ–তুরস্ক নৌবাহিনী সহযোগিতা সভা ভবিষ্যতে যৌথ নৌ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং আঞ্চলিক নৌ নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






