বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে তারেক রহমান, সফর শুরু ২২ জানুয়ারি

তারেক রহমানের নির্বাচনি সফর: ১৭ জেলায় দলীয় প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি!

বদিউল আলম লিংকন: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭টি জেলায় নির্বাচনি সফরে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে তিনি বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি জনগণ এবং দলীয় প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। দীর্ঘদিন পর ঢাকার বাইরে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

সফরের সূচি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে যাত্রা শুরু হবে। সিলেটে নির্বাচনী জনসভা সফল করার জন্য স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সিলেটের পরে সফর অব্যাহত থাকবে মৌলভীবাজার, শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল কোট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে। ২৩ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

পরবর্তী ধাপে ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম হয়ে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং কুমিল্লা জেলায় দলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই অঞ্চলে তারেক রহমান জনসভায় অংশ নেবেন এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।

সফরের শেষ পর্যায়ে, ২৬ জানুয়ারি বরিশালের বেলস পার্কে বিভাগীয় স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমানের বরিশাল সফর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর সফর অব্যাহত থাকবে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর মাঠ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফিরবেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের সময় তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এসমূহের মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক সংস্কার, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। সিলেট বিভাগের সফরকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন, এবং হবিগঞ্জে জনসভা বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সফর বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন গতি যোগ করবে বলে দলের নেতারা মনে করছেন। যদিও উত্তরাঞ্চলের কিছু সফর সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে, তবুও সিলেট থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত সফর অব্যাহত থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের এই সফর নির্বাচনি মাঠে দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। দলের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দেওয়া।