তারেক রহমানের গাড়িতে সাদা খাম রহস্য: ফাঁকা খাম নাকি অজানা বার্তা?

রহস্য অমীমাংসিত, খাম ফাঁকা ছিল বলে দাবি
টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে একটি সাদা খাম টেপ দিয়ে লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এখনও রহস্যাবৃত। ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মোটরসাইকেলচালককে শনাক্ত করতে পারেনি, এবং খামের ভিতরে কী ছিল—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, খামটি ফাঁকা ছিল এবং কোনো চিরকুট বা চিঠি ছিল না, কিন্তু এই দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জল্পনা চলছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাত পৌনে ১২টার দিকে গুলশানের ৬৫ নম্বর সড়কে এই ঘটনা ঘটে। তারেক রহমান তার গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন। তার গাড়িবহরের মধ্যে ঢুকে এক অজানা মোটরসাইকেলচালক দ্রুত গতিতে এসে গাড়ির পেছনে সাদা খামটি টেপ দিয়ে লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারেক রহমান গাড়িতেই ছিলেন, এবং তার নিরাপত্তা দল সামনে-পেছনে মোতায়েন ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খামটি তারেক রহমানের নিরাপত্তা দলের কাছে ছিল, কিন্তু পুলিশের হাতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি সূত্র থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে যে খামের ভিতরে কোনো লেখা বা বার্তা ছিল না—এটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। মৌখিকভাবে জানানোর পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে ফুটেজের ভিজ্যুয়াল পরিষ্কার না থাকায় মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
খামের রহস্য এবং জল্পনা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খামটি পুলিশ দেখেনি, কিন্তু তারেক রহমানের নিরাপত্তা দলের কাছ থেকে জানা গেছে যে এটি ফাঁকা ছিল। ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা চলছে—কেউ বলছেন এটা হত্যার হুমকি, কেউ বলছেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। একটি X পোস্টে বলা হয়েছে, “তারেক রহমানকে কি হত্যার হুমকি দেওয়া হলো? কি আছে লেখা?” অন্য একটি পোস্টে প্রশ্ন করা হয়েছে, “চলন্ত বাইক থেকে তারেক রহমানের গাড়িতে আঠাযুক্ত খাম লাগালো কে?” তবে কোনো সোর্সে খামে কোনো লেখা বা বার্তা থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং বেশিরভাগ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে খামের বিষয়বস্তু অজানা বা অপ্রকাশিত রয়েছে।
পুলিশের তদন্ত এবং চ্যালেঞ্জ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু এটি পরিষ্কার না হওয়ায় মোটরসাইকেলের নম্বর বা চালকের পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া, গাড়িবহরের মধ্যে কীভাবে মোটরসাইকেলচালক প্রবেশ করল—এটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
X (পূর্বে টুইটার) এবং ফেসবুকে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একটি ভিডিওতে বলা হয়েছে, “খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই মোটরসাইকেলের চালক তারেক রহমানের গাড়িতে আঠা লাগানো একটি সাদা খাম লাগিয়ে দিয়ে গেছেন… খাম লাগানো যুবককে খুঁজে পেলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে।” অন্যান্য পোস্টে এটাকে ‘রহস্যময়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো নতুন তথ্য বা প্রমাণ উঠে আসেনি।
এই ঘটনা তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। খাম ফাঁকা ছিল বলে দাবি করা হলেও, এর উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৯ জানুয়ারি ২০২৬), মোটরসাইকেলচালক অধরা রয়েছে, এবং খামের বিষয়বস্তু অপ্রকাশিত বা ফাঁকা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও আপডেটের জন্য তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।






