প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই: আলী রীয়াজ

“হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো বাধা নেই” গণভোটটি কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়া বা আটকানোর এজেন্ডা নয়!
টুইট প্রতিবেদক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর বা ক্ষমতায় যেতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়; এটি জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা দেশের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। সভাটি ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম, এবং ঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর একমত পেয়েছেন যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এর বিপরীতে প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদেরই দেওয়া দুইটি দায়িত্ব আমাদের বহন করতে হবে। প্রথম, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে না আসে। দ্বিতীয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে; আগামী ৪০ বছরের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আজ আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা শুধুমাত্র কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা নাগরিকও, তাই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সচেষ্ট থাকা এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রেক্ষাপটে গণভোটে মানুষকে সচেতন ও ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাও তাদের নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে ব্যালেটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ বোঝানো জরুরি। প্রচারণায় ব্যালেটের ‘টিক চিহ্ন’কে মূল প্রতীক হিসেবে ধরে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উৎসাহিত করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; সরকার প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে এবং নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার কেবল বিচার প্রক্রিয়ার নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
প্রফেসর আলী রীয়াজ পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অতীতে এক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে সংবিধান সংশোধন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি পুনরায় সংশোধন বা রাজনীতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বন্ধ করা প্রয়োজন, যাতে সংবিধান সুস্পষ্ট ও জনকল্যাণমূলক থাকে।





