ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা মাদারীপুরে সংঘর্ষ থামলেও থমথমে অবস্থা

শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের পর মাদারীপুরে সংঘর্ষ থেমেছে, আতঙ্ক কাটছে ধীরে ধীরে!
টুইট প্রতিবেদক: মাদারীপুর পৌর শহরের নতুন মাদারীপুর এলাকায় শ্রমিক দল নেতা শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ছবি: সংগৃহিত
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি আক্তার হাওলাদারের সমর্থকদের সঙ্গে মামলার বাদী হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোররাতে আক্তার হাওলাদারের সমর্থকরা শ্রমিক দল নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার জেরে সকাল থেকেই দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়। একের পর এক ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অভিযান চলাকালে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, এ সংঘর্ষটি শাকিল মুন্সির ২০২৫ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরোধের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, সেখানে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।






