‘এটাই শেষবার’ রুমিন ফারহানার ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ বাকবিতণ্ডা।
টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান-এর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনা ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গোগদ) এলাকায়।
ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত সভায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিনের একজন সমর্থক মো. জুয়েল-কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সভা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথাবার্তায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন, যা সমর্থকরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরও উত্তপ্ত করেন। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“এক্সকিউজ মি স্যার… দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম। এটাই শেষ সময়। এর পর আমি আর এ বিষয়ে শুনব না।” তিনি আরও বলেন, “আজ আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরবর্তীতে সেটা করব না,” এবং “আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার। মাথায় রাখবেন।”
রুমিনের বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষের আচরণকেও তিনি সমালোচনা করেন এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।
পক্ষগুলোর বক্তব্যে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান জানিয়েছেন, “সভা আয়োজনকালে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে।” সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবকর সরকার বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারার অধীনে জরিমানা করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান।” অন্যদিকে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা প্রশাসনকে ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘন করছে, কিন্তু তার ওপর অযথা চাপ ও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রুমিন ফারহানা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত, সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি। দল আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন (হাঁস প্রতীক চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন)। আসনটিতে জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৮ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত), নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ বা অফিসিয়াল তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, হুমকি-ধামকি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দিক নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে।






