রংপুরের রূপলাল–প্রদীপ হত্যা মামলায় এবি পার্টির নেতা ইউনুস গ্রেপ্তার

চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই দলিত, নতুন করে গ্রেপ্তার রাজনৈতিক নেতা।
আব্দুল্লাহিল শাহীন: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি রূপলাল দাস ও প্রদীপ লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ইউনুস আলী (৩৫)কে বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চোর সন্দেহে গণপিটুনির অভিযোগে আলোচিত এ মামলায় নতুন এই গ্রেপ্তার স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) তদন্ত খন্দকার আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নেতৃত্বে শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার এলাকা থেকে ইউনুস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর মামুনপাড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে এবং উপজেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত।
ওসি খন্দকার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ইউনুস আলীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাকে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে সংঘটিত গণপিটুনিতে দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি নির্মমভাবে নিহত হন। নিহতরা হলেন রূপলাল দাস (৪০) ও তার ভাগ্নে জামাই প্রদীপ লাল (৩৫)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে ইউনুস আলী অন্যতম। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনার সময় তিনি সক্রিয়ভাবে হামলায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় এবি পার্টির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও কয়েকটি রাজনৈতিক মহল এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। তবে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা জানান, মামলাটিতে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







