তারেক রহমান-মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ: দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলোচনায় কেন্দ্রীভূত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান- প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক। দেশে ফেরার পর বিরোধী দলীয় নেতার প্রথম সরকারী সাক্ষাৎ।
বদিউল আলম লিংকন: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এটি দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের প্রথম পরিবারসহ আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
পরিবারের উপস্থিতি ও যমুনায় আগমন
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারেক রহমানের পতাকাবাহী গাড়ি যমুনায় প্রবেশ করে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এর আগে বিকেল সাড়ে ৬টায় তিনি গুলশানের বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বাসভবনে গিয়ে পরিবার নিয়ে যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এটি তারেক রহমান ও প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। প্রথম বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনে, ডরচেস্টার হোটেলে। দেশে ফেরার পর (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) তারেক রহমান বিমানবন্দরে ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জানাজায় সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ ঘটে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই সাক্ষাৎ সৌজন্যমূলক এবং কোনো রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নেই। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ। তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক এবং প্রথমত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাপের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারম্যানের ১৭ বছরের পর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এই ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয়ের নতুন অধ্যায় শুরু করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে, সংলাপ বাড়াতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, “চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং সরকারী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”







