বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন শক্তি: এলসিটি-১০১ লঞ্চ

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এলসিটি-১০১ দেশের নৌশক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই) নির্মিত প্রথম ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি)–১০১ আজ সফলভাবে লঞ্চ করা হয়েছে।
এই লঞ্চিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি এলসিটি-১০১-এর লঞ্চিং উদ্বোধন করেন। এটি তিনটি এলসিটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রথমটি, যা সম্পূর্ণ নিজস্ব সক্ষমতা ও প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।
এলসিটি-১০১-এর গুরুত্ব ও সক্ষমতা
এলসিটি-১০১ উপকূলীয় ও অ্যামফিবিয়াস (স্থল-জল উভয়) অপারেশনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহার হবে।
জাহাজটির উল্লেখযোগ্য বহন ক্ষমতা
একযোগে ৬টি প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক (যেমন MBT 2000)।
অথবা ১২টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC)।
অথবা ১৮টি সামরিক যান
অথবা প্রায় ৩৫০ জন সৈন্য।
এই সক্ষমতা নৌবাহিনীর দ্রুত স্থল বাহিনী মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহন এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণ সরবরাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড: দেশের গর্ব
রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই শিপইয়ার্ড যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
ISO সার্টিফিকেশন অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির তত্ত্বাবধানে, আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের মাধ্যমে এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান Vard Marine Inc.-এর সহযোগিতায় এলসিটি ডিজাইন করা হলেও, নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতায় সম্পন্ন হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বিশদ বিবরণ
দৈর্ঘ্য: ৭০ মিটার, প্রস্থ: ১৩ মিটার, গভীরতা: আনুমানিক ৪–৫ মিটার, সর্বোচ্চ গতি: ১৫ নট (প্রায় ২৮ কিমি/ঘণ্টা), ড্রাফট: পিছনে ২.২ মিটার, সামনে ১.০ মিটার (লোডেড অবস্থায়), কার্গো ক্ষমতা: ৩৫০ টন।
ইঞ্জিন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য
প্রধান ইঞ্জিন: Caterpillar (USA), মোট ৩০০৪ BHP (দুটি ইঞ্জিন), জেনারেটর: Caterpillar, USA।
আধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
অ্যামফিবিয়াস অপারেশনের জন্য বিশেষ র্যাম্প/বো-র্যাম্প সুবিধা।
এই জাহাজগুলো Bay of Bengal এবং উপকূলীয় এলাকায় (চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিন ও মোংলা পর্যন্ত) যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন অপারেশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। দ্রুত স্থল বাহিনী ও ভারী যানবাহন মোতায়েন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
একটি জাতীয় অর্জন
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব জাহাজ নির্মাণে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ প্রমাণ করেছে। এলসিটি-১০১ নৌবাহিনীর অপারেশনাল শক্তি বাড়ানো ছাড়াও দেশের প্রতিরক্ষা ও শিল্প খাতে স্বনির্ভরতার পথ প্রশস্ত করবে।
তিনটি এলসিটির মধ্যে প্রথমটি এলসিটি-১০১ আজ লঞ্চ হয়েছে। বাকি দুটির নির্মাণ কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এলসিটি-১০১ দেশের নৌশক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।







