রমজানের প্রস্তুতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর আহ্বান: চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

রামাদানের আগে ‘ড্রাই মাস’ মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতা উন্নয়নে সহায়ক।
টুইট ডেস্ক: রমজান মাসের আগের কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিকিৎসকরা। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ধূমপান, ভ্যাপিং বা অ্যালকোহল সেবন করেন, তাদের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস ও ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।
Not Fasting? UAE Doctors Urge a 30-Day ‘Dry Month’ Ahead of Ramadan
Burjeel Medical Center, Al Shamkha-র পালমোনোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সুহা আলশেইখ সুলেইমান বলেন, “রমজানের আগে আমরা লক্ষ্য করি কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা খুসকানো, ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা বেড়ে যায়। অ্যালকোহল ঘুম এবং হজমকে ব্যাহত করে, আর ধূমপান ও ভ্যাপিং শ্বাসপ্রশ্বাসকে ভারী ও অস্বস্তিকর করে তোলে, যা রোজা পালনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে।”
চিকিৎসকরা মনে করান যে, শুধুমাত্র রোজা রাখার জন্য নয়, রমজানের আগে ৩০ দিনের ‘ড্রাই মাস’ (Dry Month) পালন করলে অ্যালকোহল, ধূমপান ও অনিয়মিত জীবনধারার নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পায়। এটি স্বাভাবিকভাবে খাওয়ার প্রবল বাসনা কমাতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হয়।
ডা. সুলেইমান আরও বলেন, “অ্যালকোহল, ধূমপান ও ভ্যাপিং বন্ধ বা কমানো শ্বাসপ্রশ্বাসে উন্নতি আনে, ঘুমের মান বাড়ায় এবং দেহের পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এমন একটি প্রাক-রামাদান স্বাস্থ্য রিসেট, রোজা না রাখলেও সকলের জন্য উপকারী।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরতি নেওয়া উচিত। এভাবে রমজানের আগেই শরীর ও মনকে প্রস্তুত করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করবে।
ডা. সুলেইমানের মতে, “যদি লোকেরা এই ৩০ দিন নিয়মিত ‘ড্রাই মাস’ মেনে চলে, তবে তারা রামাদান মাসের ফিজিওলজি এবং হজম ব্যবস্থাকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে। এটি কেবল রোজাদারদের জন্য নয়, অরোজাদারদের জন্যও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ।”
সর্বশেষে, চিকিৎসকরা সবাইকে সচেতন করতে বলেন যে, এই ধরনের প্রাক-রামাদান স্বাস্থ্য উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক শান্তি ও সুস্থ জীবনধারার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সুত্র: Gulf News






