বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান

প্রশাসনের অভিযানেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়, তবে অনেক ভাটা এখনও কার্যকর।
অসীম রায় (অশ্বিনী): বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে। লামা উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি অবৈধ ইটভাটাকে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
এসবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ আজম খানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আপরদিকে টিএমবি ইটভাটার মালিক করিমূল মোস্তফা স্বপনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম এই জরিমানা আদায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে থানচি উপজেলার হেডম্যান পাড়ায় অবস্থিত এসবিএম ব্রিকস নামের অবৈধ ইটভাটা এখনো বন্ধ হয়নি। মালিক পলাতক থাকলেও তার ভাই ও সহযোগীরা উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাটাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থান করছে, যার কারণে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী দূষণের কারণে প্রতিবন্ধী শিশুর জন্মের হারও বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধুমাত্র প্রশাসনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় জনগণকে মানববন্ধন ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে একত্রিত হয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, “অর্থের অভাবে কিছু এলাকায় অভিযান সীমিত হচ্ছে।”
বান্দরবানে লামা উপজেলায় বর্তমানে ২৮টিরও বেশি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযানে জরিমানা, মামলা ও ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার উৎপাদন শুরু হয়। এতে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ ইটভাটার স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত মনিটরিং, স্থায়ী সিলগালা এবং মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
স্থানীয় জনগণও আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে। বান্দরবানের মতো সংবেদনশীল পার্বত্য এলাকায় এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না গেলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।







