আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড পেলেন বগুড়ার গর্ব ড. তাসকিনুর রহমান

বিশিষ্ট উন্নয়ন কর্মী ও গবেষক ডা. মো. তাসকিনুর রহমানকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’, Certificate of Honor এবং Fellowship গ্রহন করছেন। ছবি: সংগৃহিত

দেশের উন্নয়নে অবদান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বগুড়ার সন্তান।

টু্ইট প্রতিবেদক: উন্নয়ন গবেষণা, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট উন্নয়ন কর্মী ও গবেষক ড. তাসকিনুর রহমান-কে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’, Certificate of Honor এবং Fellowship প্রদান করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস, ভাষা ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (ICALDRC)-এর ভাষাতত্ত্ব ইউনিট কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন ডিজিটাল/ফেসবুক পেজে লাইভ সম্প্রচার করা হয়।

গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যতিক্রমী অবদান

ICALDRC-এর অফিসিয়াল নথি অনুযায়ী, ড. তাসকিনুর রহমান সমাজবিজ্ঞান, উন্নয়ন অধ্যয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, মাইক্রোক্রেডিট এবং প্রাতিষ্ঠানিক গভর্ন্যান্সে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার গবেষণাগ্রন্থ “Microcredit and Women’s Empowerment: A Case Study of Bangladesh” (Routledge, UK, ২০১১) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই বইটি মাইক্রোক্রেডিট ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।

তার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ দেখিয়েছে যে, অর্থনৈতিক উন্নতি সবসময় নারীদের সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়; কখনো কখনো এটি নতুন নিয়ন্ত্রণের ফর্ম তৈরি করতে পারে। এই কাজ উন্নয়ন নীতি ও প্রোগ্রাম পরিকল্পনায় গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব

ড. তাসকিনুর রহমান আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, পুনর্বাসন ফ্রেমওয়ার্ক, ডোনর-ফান্ডেড উদ্যোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তার বিশেষজ্ঞতা দেশের উন্নয়ন খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

দেশের উন্নয়নে অবদান

চরাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন

উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চরাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পানি সরবরাহ, কৃষি ও মৎস্যচাষে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ সহজ হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় নেতা ও নারী গ্রুপ আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠছে, যা দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি

মাইক্রোক্রেডিট, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তারা ব্যবসা, কৃষি ও হস্তশিল্পে কাজ করতে সক্ষম। সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি ও নীতি উন্নয়ন

সরকারি ও এনজিও প্রকল্পে দক্ষতা উন্নয়ন, নীতি পরামর্শ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। নীতি-নির্ধারণে তার অভিজ্ঞতা স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন নীতিকে ফলপ্রসূ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়ন খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতি রাখে। বিদেশি দাতা সংস্থা, এনজিও ও গবেষণা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হয়।

সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন

সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি দুর্যোগ বা অন্যান্য ঝুঁকির সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করে, যা দারিদ্র্য হ্রাস, জীবনমান উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সহায়ক।

শিক্ষা ও স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশ

স্থানীয় নেতৃত্ব, কমিউনিটি সংগঠন এবং শিক্ষা উদ্যোগকে শক্তিশালী করে উন্নয়ন কার্যক্রম টেকসই ও স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী অভিযোজিত হয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পরিচিতি

ICALDRC-এর ওয়েবসাইটে “The ICA awarded recipients – Part –1” শিরোনামে আংশিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এই অ্যাওয়ার্ড গবেষণা, সাহিত্য, পারফর্মিং আর্টস, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনন্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে এসপি ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম পিপিএম-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও সম্মাননা লাভ করেছেন।

দেশের উন্নয়নের নিবেদিত যোদ্ধা

ড. তাসকিনুর রহমান Assistance for Social Organization and Development (ASOD) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ এক্সিকিউটিভ। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি চরাঞ্চল উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে আসছেন।

এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর গবেষণা ও নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ভাবনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অর্থনৈতিক উন্নতি সবসময় নারীদের সামাজিক/রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সাথে যুক্ত নয় – বরং কখনো কখনো নতুন নিয়ন্ত্রণের ফর্ম তৈরি করতে পারে। ড. তাসকিনুর রহমানের এই কাজ উন্নয়ন অধ্যয়ন এবং বাংলাদেশের মাইক্রোফাইন্যান্স নিয়ে গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাকে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।