বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত

ফ্যামিলি ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
এতে গ্রিন কার্ডসহ সব ধরনের স্থায়ী বসবাসের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়ার বিদ্যমান স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনা ও হালনাগাদ না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা চলবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
স্থগিতাদেশের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “Public Charge” নীতির কঠোর প্রয়োগ। এই নীতির আওতায় কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা বা কল্যাণ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
এক্ষেত্রে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং অতীতে সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে
তবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসাই পড়ছে। টুরিস্ট, বিজনেস, স্টুডেন্ট কিংবা টেম্পোরারি ওয়ার্ক ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ ভ্রমণ, পড়াশোনা বা স্বল্পমেয়াদি কাজের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
এই বিষয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর উদ্ধৃতি দেয়। পরবর্তীতে রয়টার্স, সিএনএন, এনবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, আমেরিকান জনগণের উদারতা এবং করদাতাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই স্থগিতাদেশে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মোট ৭৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, হাইতি, ব্রাজিল, মিশর, থাইল্যান্ড, নেপাল, কিউবা, লেবানন, জর্ডান, ইয়েমেনসহ বহু দেশ রয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকা থেকে ২৭টি, এশিয়া থেকে ২২টি এবং ইউরোপ থেকে ৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ফ্যামিলি-স্পনসরড ভিসা, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড এবং ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু আবেদনকারী দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চয়তায় পড়বেন। এমনকি যাদের ইন্টারভিউ ইতোমধ্যে নির্ধারিত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট travel.state.gov নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত এলে তা সেখানে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।






