৫৪ বছরের ইতিহাসে বিএসসি’র সর্বোচ্চ মুনাফা ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা

সরকারের অনুকূলে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর, বহরে নতুন জাহাজ সংযোজনের নির্দেশনা।

টুইট ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যেভাবে লাভজনক অবস্থানে এসেছে, তা ভবিষ্যতেও ধরে রাখার জন্য দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

বুধবার  (১৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কর্তৃক সরকারের অনুকূলে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিএসসি বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণের কিস্তি এবং ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ এই অর্থ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক প্রধান উপদেষ্টার হাতে চেক তুলে দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা নিতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ে বিএসসি আরও শক্তিশালী হয় এবং বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত করা সম্ভব হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বহরে জাহাজ সংখ্যা বাড়লে নাবিকদের উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এসময় তিনি মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বমানের নাবিক তৈরির জন্য প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ধরে রাখা জরুরি।

বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি জাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ঋণের মূল পরিমাণ ছিল ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।

এই ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অর্থ বিভাগ ও বিএসসি’র মধ্যে একটি Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিএসসি আগামী ১৩ বছরে মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা সরকারকে পরিশোধ করবে। এছাড়া, গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদ বাবদ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ টাকার চেক গত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বিএসসি’র বহরে ৬টি নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৫টি জাহাজ—এম.ভি. বাংলার জয়যাত্রা, এম.ভি. বাংলার অর্জন, এম.টি. বাংলার অগ্রযাত্রা, এম.টি. বাংলার অগ্রদূত ও এম.টি. বাংলার অগ্রগতি—আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে।

উল্লেখ্য, বিএসসি তার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। এই অগ্রগতিতে বহরে সংযুক্ত নতুন জাহাজগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি ইতোমধ্যে নতুন জাহাজ সংগ্রহের একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের আওতায় প্রথম জাহাজ ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির সূচিতে রয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি অর্থায়নে ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার, নিজস্ব অর্থায়নে ১টি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার এবং চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও ৪টি বড় মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বিএসসি আরও শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।